আশাশুনি উপজেলার গুনাকরকাটি শাহ্ মোহাম্মদ ইয়াহিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান শিক্ষিকা হাসনা হেনার দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতি এবং নিয়মিত বেতন উত্তোলনের ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রথম পর্ব প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষিকা হাসনা হেনা ২১ ডিসেম্বর ২০২২ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তবে চাকরিতে যোগদানের আগেই তিনি বিএড কোর্সে ভর্তি ছিলেন। চাকরিতে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে দীর্ঘমেয়াদি অধ্যয়নকালীন ছুটি গ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিএড অধ্যয়নের জন্য তিনি প্রায় দেড় বছরের ছুটি ভোগ করেছেন। অথচ প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অধ্যয়নকালীন ছুটির নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে এবং চাকরির নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হওয়ার আগে এ ধরনের ছুটি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। ফলে কীভাবে এই ছুটি অনুমোদন করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠান থেকে অনুপস্থিত থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন ওই শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যোগদানের পর থেকে তার উপস্থিতির সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। অধিকাংশ সময় তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে পাঠদানে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। অন্য বিভাগের শিক্ষকদের দিয়ে অনেক সময় ক্লাস পরিচালনা করতে হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা অনেকেই জীববিজ্ঞান শিক্ষিকা হাসনা হেনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। কারণ তিনি খুব কম সময় বিদ্যালয়ে এসেছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়ভিত্তিক পাঠদান না হওয়ায় তাদের লেখাপড়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রভাব ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও প্রশাসনিক সুবিধা পেয়েছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাসনা হেনা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। চিকিৎসার প্রয়োজনেই নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজন হলে আমি যথাযথ ব্যাখ্যা দেব।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ড বলেন, “দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি এবং বেতন উত্তোলনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন যদি কোনো শিক্ষক বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটি এতদিন কী ভূমিকা পালন করেছে? একই সঙ্গে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।