বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

দুদকের নজরদারিতে নার্সিং ইনস্টিটিউট; শিক্ষার্থীদের ভাতা লুটের অভিযোগে রাজন হোসেন উধাও

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩১৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা কলেজ রোডে অবস্থিত আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোঃ রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রকল্প “ASSET দ্বিতীয় সার্কেল (EBT)” এর আওতায় প্রশিক্ষণরত শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভাতার অর্থ কৌশলে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল (ISISC)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের কারিগরি শিক্ষা ও ভাতা প্রদান করা হয়।

জানা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানের ৯২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ভাতার টাকা বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ভাতার একটি অংশ কর্তনের পর প্রতিজন শিক্ষার্থীর প্রায় ১০ হাজার ৫৬০ টাকা পাওয়ার কথা ছিল। এ সংক্রান্ত বরাদ্দ ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর ৫৭.০০.০০০০.০৪৮.১৮.০০৯.২২ নম্বর স্মারকে সিনিয়র সহকারী সচিব মোছাঃ শাহনাজ মিথুন মুন্নী-এর স্বাক্ষরে প্রদান করা হয়।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পরিচালক রাজন হোসেন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাদের ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করেন। পরে সেই চেক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং শিক্ষার্থীদের চাপে রাখতে তার স্বাক্ষরিত একটি বিতর্কিত নোটিশ জারি করা হয়। ওই নোটিশে বলা হয়—কোনো শিক্ষার্থী যদি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে সরকারি মামলা, ব্যাংক হিসাব জব্দ এবং সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত করা হবে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এছাড়া, নোটিশে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ‘সরকারি টাকা আত্মসাৎ’ এর অভিযোগ তুলে তালিকা প্রকাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা। পরে জানতে পারি আমাদের ভাতার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের ভয় দেখানো হয়।”

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়ে তড়িঘড়ি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। অন্যদিকে, অ্যাসেট প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোঃ সবুজ আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি প্রকাশের পর থেকে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৩ মার্চ থেকে পরিচালক রাজন হোসেন লাপাত্তা রয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে একের পর এক নতুন অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে, যা নিয়ে শিগগিরই আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা থাকলেও পরিচালক নিজে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর নজরে এসেছে এবং প্রাথমিকভাবে নজরদারি শুরু হয়েছে।

সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com