বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

সাতক্ষীরা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ 

সাইফুল আজম খান মামুনঃ / ২৭০ Time View
Update : সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০২৫
সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব

সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব যোগদানের পর থেকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তর দূর্নীতির আখড়াই পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা খামারিদের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দাবিকৃত টাকা খামারিরা দিতে অপারগতা জানালে বরাদ্দকৃত তালিকা থেকে ওই খামারির নাম বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নাম পরিবর্তন করে অন্য খামারিকে সুবিধা  প্রদান করা হয়েছে। বিধিবহির্ভূত কাজ হওয়া সত্বেও প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব অবলীলায় চালিয়ে যাচ্ছেন ঘুষ বানিজ্য।
প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার এসব অপকর্মের কারণে বরাদ্দকৃত প্রকৃত খামারিরা সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা অন্যদিকে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প (এল,ডি,ডি,পি) এর আওতায় তালিকা ভুক্ত খামারি প্রতি ১০টি গাভীর বিপরীতে স্মার্ট ক্লাইমেট শেড নির্মানের জন্য বরাদ্দ আসে। বরাদ্দ পাওয়া খামারিদের স্মার্ট ক্লাইমেট শেড ঠিকাদার কর্তৃক নির্মান করার আগে মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব। প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দাবিকৃত ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে খামারির নাম পরিবর্তন করে অন্য খামারির নাম দেন বলে এ অভিযোগ করেন একাধিক খামারিরা। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা  ইউনিয়নের যোগরাজপুর গ্রামের খামারি রশীদুল ইসলাম বলেন, গত ০৫-০৬-২৪ তারিখ সহকারী প্রকল্প পরিচালক ড. হিরনময় বিশ্বাস কর্তৃক সাক্ষরিত প্রাণিসম্পদ ও ডেইরী উন্নয়ন প্রকল্প (এল,ডি,ডি,পি) এর বরাদ্দকৃত মাঝারি ১০টি গাভীর স্মার্ট ক্লাইমেট শেড এর আওতায় আমি একজন সাতক্ষীরা সদরের সুবিধাভোগী ব্যক্তি।
কিন্ত অদ্যাবধি (এল,ডি,ডি,পি) প্রকল্পের বরাদ্দকৃত স্মার্ট ক্লাইমেট শেড উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আমাকে দেয়নি। ভুক্তভোগী খামারি রশীদুল ইসলাম বলেন, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব স্মার্ট ক্লাইমেট শেড নির্মানের জন্য আমার নিকট ২ লক্ষ টাকা উৎকোচ দাবি করেন। উৎকোচ প্রদানে আমি অস্বীকৃতি জানালে স্মাট ক্লাইমেট শেড আমাকে প্রদান না করে তিনি নাম পরিবর্তন করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৩ নং বৈকারী ইউনিয়নের এল,এস,পি আঙ্গুরা খাতুনের শ্বশুরের নামে স্মার্ট ক্লাইমেট শেড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা বর্তমানে নির্মানাধীন আছে। ভুক্তভোগী বলেন, কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র টাকার জন্য আমাকে সুবিধা বঞ্চিত করেছেন দূর্নীতি পরায়ণ  প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রশীদুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর  উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব এর দূর্নীতির বিরুদ্ধে খুলনা বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ দপ্তর পরিচালক বরাবর গত ১২-০৩-২৫ তারিখ একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ নাজমুস সাকিব মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব ভোকাস। সব কিছু পূর্ব পরিকল্পিত। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খামারি রশীদুল ইসলাম এর কোন রেসপন্স না পেয়ে পরবর্তীতে আমি উর্ধতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলে তার বরাদ্দকৃত স্মার্ট ক্লাইমেট শেড অন্য এক খামারিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। অপর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিলে তিনি প্রতিউত্তরে কোন বক্তব্য না দিয়ে তড়িঘড়ি করে আলাপ কলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com