সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে দীর্ঘদিনের কথিত দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন মোড় নিয়েছে। নতুন অধ্যক্ষের যোগদানের আগের রাতেই পূর্বের কথিত তেল আত্মসাতের হিসাব গোপনে মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকালে প্রায় ৫০০ লিটার তেলসহ একটি চালান আটক হওয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে কলেজের সরকারি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান সিন্ডিকেটের সঙ্গে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও এক কর্মচারী বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীরকে এর আগেই চিফ ইন্সট্রাক্টর পদে অবনমিত করে বরিশাল সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে বদলি করা হয়। সোমবার নতুন অধ্যক্ষ প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণের কথা থাকায়, তার আগের রাতেই কলেজে গোপনে তেল প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, গত অর্থবছরে কলেজের অটোমোবাইল ল্যাবের জন্য ২ হাজার লিটার তেল ক্রয়ের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে তেল কেনা হয়নি। নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব নিয়ে স্টক যাচাই করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে এই আশঙ্কা থেকেই আত্মসাৎ করা তেলের একটি অংশ রাতের আঁধারে কলেজে এনে ল্যাবের স্টকে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।স্থানীয় সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা কলেজ গেটে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেলবাহী গাড়িটি কলেজে প্রবেশের সময় সেটি আটকে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অটোমোবাইল ল্যাবের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর নিয়াজ মাহমুদ নিজের জিম্মায় থাকা কলেজের সরকারি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পালিয়ে যান। একই সঙ্গে ফার্ম মেশিনারি ইন্সট্রাক্টর বিশ্বনাথ সরকার ও হিসাবরক্ষক নয়ন বিল্লাহও পেছনের দিক দিয়ে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
বর্তমানে তিনটি ড্রামে থাকা প্রায় ৫০০ লিটার তেল এবং ফেলে যাওয়া সরকারি মোটরসাইকেল শিক্ষার্থীদের হেফাজতে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কলেজে ভয়ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে রেখেছিল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেদের অনিয়ম-দুর্নীতি আড়াল করতে প্রভাব খাটিয়ে প্রতিষ্ঠানের একাধিক জনপ্রিয় শিক্ষককে দূরবর্তী কর্মস্থলে বদলিও করা হয়েছিল।এ ঘটনায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক দীনবন্ধু মণ্ডল, জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর নিয়াজ মাহমুদ, ইন্সট্রাক্টর বিশ্বনাথ সরকার এবং হিসাবরক্ষক নয়ন বিল্লাহর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রমাণ নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
ঘটনার পর কালীগঞ্জজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, তেল জব্দের ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে। এবিষয়ে অভিযুক্তদের মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।