মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

তদন্ত ঠেকাতে হুমায়ুনের মরিয়া তৎপরতা!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ২৯০ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে একের পর এক অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি দূরে অবস্থান করেও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। এদিকে, ২৫ জুন সাতক্ষীরা কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ২১ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে সৃষ্ট জনরোষ নিরসন এবং জরুরি প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন অভিযোগের কারণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার পর সম্ভাব্য তদন্ত কার্যক্রম ঠেকাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত করিমের মাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুন একটি স্মারকের মাধ্যমে কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ইংরেজি ইন্সট্রাক্টর প্রীতি সুন্দর বিশ্বাসকে পটুয়াখালীর গলাচিপা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে বদলি করা হয়। এর পর গত ৭ জুলাই একই প্রতিষ্ঠানের বাংলা ইন্সট্রাক্টর মোঃ জিয়াউর রহমানকে সুনামগঞ্জের ছাতক সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষকদের একটি অংশের অভিযোগ, কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এসব বদলি করা হচ্ছে। তারা দাবি করছেন, অভিযোগের মুখে থাকা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের অবস্থান রক্ষায় প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। কিন্তু তদন্তের আগে যদি শিক্ষক বদলি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে, তাহলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবির ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত করিমের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানা গেছে, মহাপরিচালকের দপ্তরে দেওয়া অভিযোগের পর খুব শিগগিরই একটি তদন্ত কমিটি কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা আশা করছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ হুমায়ুন কবির, সহকারী পরিচালক মোঃ এনায়েত করিমের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভোকেশনাল) প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল হক বলেন, কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমরা কারও বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যেতে চাই না। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com