সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি কৃষক তালিকা প্রণয়নকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং কোটি টাকার সরকারি সুবিধা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী কাজী আবু সাঈদ সোহেল, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখা। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. রোকনুজ্জামান দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় এবং বসন্তপুর খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি কৃষক তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, প্রকৃত কৃষকদের তালিকাভুক্ত না করে রোকনুজ্জামানের আত্মীয়-স্বজন, দলীয় অনুসারী ও কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদের কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর এতে কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের প্রায় ২০০ জনকে বিশেষ তালিকাভুক্ত করে তাদের নামে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছে। কাগজে-কলমে সুবিধা বিতরণের তথ্য দেখানো হলেও প্রকৃত কৃষকরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, বিষয়টি গোপন ও প্রকাশ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করলে সব অনিয়ম, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সত্যতা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, কৃষিবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পরিবর্তে একটি অসাধু চক্র সরকারি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করছে। লিখিত অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত কৃষকদের তালিকা পুনঃযাচাই এবং অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. রোকনুজ্জামানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রকৃত কৃষক যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়েও প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।