মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

চেয়ারম্যান বাচ্চুর বিরুদ্ধে জাল ওয়ারেশ সনদের অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৩৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওয়ারেশ সনদে অতিরিক্ত দুই ব্যক্তির নাম সংযুক্ত করে জালিয়াতির মাধ্যমে ওয়ারেশ সনদ প্রদান করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, খাজরা ইউনিয়নের রাওতাড়া গ্রামের মৃত অনন্ত মন্ডলের ছেলে মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পাঁচ ছেলে সন্তান হলেন গোবিন্দ মন্ডল, মহিন্দ্র মন্ডল, রবিন মন্ডল, রঞ্জন মন্ডল ও সুশান্ত মন্ডল। তাদের পিতার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক আলী মোড়ল ওয়ারেশ সনদ প্রদান করেন, যেখানে ওই পাঁচ ছেলেকেই বৈধ ওয়ারেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১ আগস্ট এবং ২০২৩ সালের ২ মার্চ খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম শাহানেওয়াজ ডালিমও পৃথক ওয়ারেশ সনদে একই পাঁচ ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করে সনদ প্রদান করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, গত ২০২৬ সালের ৫ জুন বর্তমান চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু পূর্বের সকল সরকারি নথি ও রেকর্ড উপেক্ষা করে নতুন একটি ওয়ারেশ সনদ ইস্যু করেন। ওই সনদে মৃত খগেন্দ্রনাথ মন্ডলের পিতা হিসেবে অনন্ত মন্ডলের পরিবর্তে মৃত শুম্ভু পাড়ই মন্ডলের নাম উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে পূর্বে কখনো ওয়ারেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না থাকা অনিতা মন্ডল ও দুর্গা রানী মন্ডল নামের আরও দুই ব্যক্তিকে যুক্ত করে মোট সাতজনের নামে ওয়ারেশ সনদ প্রদান করা হয়। এ বিষয়ে ওয়ারেশ রবিন মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সরকারি ওয়ারেশ সনদে পাঁচজনের নাম থাকলেও হঠাৎ করে বর্তমান চেয়ারম্যান দুইজনের নাম সংযুক্ত করে নতুন সনদ দিয়েছেন।

এর পেছনে আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারি নথিপত্র পরিবর্তন করে নতুন ব্যক্তিদের ওয়ারেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা শুধু ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, ভবিষ্যতে জমিজমা ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধেরও বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে এর আগেও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে। এছাড়া রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন নিয়েও এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ওই ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তাহমিনা খাতুনের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্টদের ওয়ারেশ সনদ দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com