সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে সরকারি আইন ও প্রশাসনের দেওয়া নোটিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্রিজের পাশের মূল্যবান খাস জমি দখল করে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় জনমনে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেতুলিয়া ব্রিজের কোল ঘেঁষে সরকারি খাস জমিতে বড় পরিসরে পাকা ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৃত ইউনুস আলীর জামাতা ও পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা মোঃ সিরাজুল ইসলাম এই দখলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সিরাজুল ইসলামের ভাই সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত থাকায় সেই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি জনস্বার্থ উপেক্ষা করে সরকারি সম্পদ কুক্ষিগত করছেন।
এ বিষয়ে কাদাকাটি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গত ১৪ এপ্রিল নির্মাণ কাজ চলাকালে তিনি সরেজমিনে গিয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কিন্তু মাত্র দুদিন কাজ বন্ধ রেখে অভিযুক্তরা পুনরায় দম্ভের সাথে নির্মাণ কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল ভূমি অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রদান করা হলেও সিরাজুল ইসলাম তার কোনো তোয়াক্কা না করেই দ্রুত গতিতে স্থাপনা গড়ে তুলছেন।
ভূমি কর্মকর্তা আরও জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও এসিল্যান্ডকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
তেতুলিয়া বাজার কমিটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ওই ফাঁকা জায়গাটি বাজার সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। সেখানে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে সাপ্তাহিক হাটের ব্যবস্থা করার কথা ছিল যাতে মূল সড়কের ওপর যানজট ও ভিড়ের চাপ কমে। কিন্তু ভূমিদস্যু চক্রটি সেই জনহিতকর পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করতে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ভূমিদস্যুরা আইনের চেয়েও শক্তিশালী হয়ে দাঁড়ালে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা সমূলে বিনষ্ট হবে। তারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দখলদারদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।