সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতায় অবস্থিত আর.বি নার্সিং কেয়ার ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোঃ রাজন হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, বিভিন্ন সময় ফোন করে ভুল তথ্য দিয়ে তাদের ব্যাংক চেকে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়। পরে সেই চেক ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভাতার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে ব্যাংক হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনা করে তারা জানতে পারেন যে তাদের নামে বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা অন্যভাবে উত্তোলন করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জি এম সুমন নামে এক ব্যক্তি মন্তব্য করে বলেন, প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম চলে আসছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগও আগে থেকে শোনা যেত বলে তিনি দাবি করেন। ইয়াসিন পলাশ বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অন্যদিকে মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা যাকে ভালো মানুষ হিসেবে জানতাম, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সত্যিই বিস্ময়কর।” জাকিয়া নামে এক মন্তব্যকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জি.এম. মাহফুজ বিল্লাহ বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে অনেকের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।” লামিয়া হোসেন বলেন, “ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা বন্ধ হবে বলে তারা মনে করেন।