মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ইটভাটা; জ্বলছে কাঠ-টায়ার, পুড়ছে ভবিষ‌্যৎ

ইয়াসিন আরাফাত পিন্টু / ২২৭ Time View
Update : বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৫

★ প্রতারণার শীর্ষে ভাটা কতৃপক্ষ
★ জনবসতিতে ভাটা; হুমকিতে পরিবেশ 
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দলে মেসার্স এ,কে,এস ব্রিকসে অবৈধভাবে চলছে ইটভাটা। অবৈধ এই ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্ট নির্দেশ দিলেও তা মানা হচ্ছে না। বরং ইটের মৌসুম আসাতে ভাটাতে কাজ চলছে জোরেশোরে। আর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে।
ভাটার ম্যানেজার নিলকান্ত জানায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ভাটার কার্যক্রম। অবৈধ এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। কয়লার দাম বাড়তি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারে লাকড়ি-কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে। ফলে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি জমি, বৃক্ষ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ।
আশাশুনি উপজেলার বড়দলে মোট ৩ টি ইটভাটা রয়েছে। ৩ টি ইটভাটার মধ্যে একটির ও নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
মঙ্গলবার দুপুরে আশাশুনি উপজেলার বড়দলে অবস্থিত মেসার্স এ,কে,এস ব্রিকসে ইট ভাটায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেইন রাস্তার ধারেই শত শত মেট্রিকটন কাঠ জমা করে রাখা আছে।
লাইসেন্সবিহীন মেসার্স এ,কে,এস ব্রিকসে ইটভাটার চারপাশে মজুত করে রাখা হয়েছে কয়েকশ মন লাকড়ি। ভাটাতে কাঠ পোড়ানোর ফলে চিমনি দিয়ে প্রচণ্ড বেগে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আর সেই ধোঁয়া স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বসতি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
অপর দিকে এসব ইটভাটাতে ৩ থেকে ৪ ধরনের ফরমা ব্যবহার করা হয়। এতে ইটের সাইজ ছোট-বড় করে প্রতিনিয়তই ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়ে থাকে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে লাইসেন্স ব্যতীত কোনো ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা যায় না এবং জ্বালানি হিসেবে ইটভাটায় কাঠের ব্যবহার নিষিদ্ধেরও বিধান রয়েছে। কিন্তু আশাশুনি বড়দলে শীত মৌসুমকে সামনে রেখে অবৈধ ইটভাটাগুলো কার্যক্রম শুরু করেছে। এমনকি ইটভাটাগুলো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে আমসহ বিভিন্ন গাছের কাঠ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম এপ্রতিবেদককে বলেন, আশাশুনি বড়দলে ৩ টি ইটভাটা রয়েছে। যার একটিরও পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ ছাড়পত্র নেই। এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ ইটভাটা বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি অবগত স্থানীয় প্রশাসন। খুব শ্রীঘ্রই এসব ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা আছে। আশাশুনি ইউএনওকে এসব ইটভাটা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com