রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে জাহিদ বিন সুজন (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে তালা থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে তালা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে সাতক্ষীরা আদালতে প্রেরণ করেছে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী পূর্বে বিবাহিত ছিলেন। তাকে আগের সংসার থেকে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে নিজে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে জাহিদ বিন সুজন দীর্ঘদিন তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক বজায় রাখেন। এ সময় বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। পরবর্তীতে ওই নারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করলেও আসামি মোবাইল ফোনে তাকে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিতে থাকেন।গত ১৩ জুলাই বিয়ের কথা বলে ওই নারীকে তালা বাজারে আসতে বলেন জাহিদ। তিনি খুলনা থেকে তালা বাজারে পৌঁছালে আসামি তাকে মোটরসাইকেলে করে খাজরা গ্রামের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। ওই দিন রাতে বিয়ের কথা বলে নাস্তা খাওয়ানোর পর শয়নকক্ষে নিয়ে আসামি তাকে পুনরায় ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুবক্কার সিদ্দিক জানান, ধর্ষণ মামলায় সুজন নামে এক যুবককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে।
এরআগে, ২০২৪ সালের জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাকরি, ট্যালেন্ট হান্টিং ও মডেলিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের ফাঁদে ফেলা একটি চক্রের মূলহোতা মেডিকেল শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান এবং তার প্রধান সহযোগী শেখ জাহিদ বিন সুজনসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। চক্রটি তরুণীদের আপত্তিকর ছবি হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে জোরপূর্বক দেহ ব্যবসায় বাধ্য করতো। পরবর্তীতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ সুজন পুনরায় র্যাবের হাতে আটক হয়।
গত সাত বছরে অসামাজিক কার্যকলাপের মাধ্যমে চক্রটি প্রায় ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এই অর্থ দিয়ে তারা ঢাকা, খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরায় বিপুল জমি এবং আলিশান বাড়ি তৈরি করে, পাশাপাশি স্বজনদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল পরিমাণ টাকা জমা রাখে। ঘটনাটি নিয়ে আদালতে পৃথক মামলা চলমান।