রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

চাঁদাবাজদের হুমকির পর প্রতাপনগরে দোকানে আগুন!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৩৫ Time View
Update : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরে মহিব টেলিকম অ্যান্ড স্টোর নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৬ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল পুড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে দোকান মালিকের ছোট ভাইকে মারধর ও দোকান পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দোকান মালিক মারুফ বিল্লাহ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতাপনগর পশ্চিম মাথার বিট হাউজ মোড় এলাকায় মারুফ বিল্লাহর মহিব টেলিকম অ্যান্ড স্টোর নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে প্রায় ৬ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল ছিল। মাঝে মাঝে দোকানটি পরিচালনা করতেন তার ছোট ভাই মো. মহিবুল্লাহ।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিকাশে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে মো. মেহেদী হাসানের সঙ্গে মহিবুল্লাহর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেহেদী তাকে দোকান থেকে টেনে বাইরে নিয়ে যান এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এলে মহিবুল্লাহকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি চলে যান বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টার দিকে মহিবুল্লাহ দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে গ্রামের মো. লিয়াকত আলী ফোন করে জানান, দোকানে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে মহিবুল্লাহ, তার বাবা-মা ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীর দাবি, আগুনে দোকানে থাকা প্রায় ৬ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক মালামাল পুড়ে যায়। একই সঙ্গে ক্রেতাদের কাছে পাওনা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার হিসাব সংবলিত বকেয়া খাতাও পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারুফ বিল্লাহর অভিযোগ, ১৯ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৯টা থেকে ২০ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার মধ্যে পূর্বশত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে দোকানে আগুন ধরিয়ে দিতে পারে বলে তার সন্দেহ। ঘটনার আগে ও পরে অভিযুক্তদের কয়েকজনসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের ভ্যানযোগে দোকানের আশপাশে যাতায়াত করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. আরাফাত হোসেন, মো. মেহেদী হাসান, মো. আবুজার, মো. রাজা হোসেন ও মো. হাবিবুল্লাহর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় রবিউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, গাজী আরিফিন, বাবু হোসেন ও মোকছেদ গাজীসহ কয়েকজনকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, ঘটনার সময় তিনি সাতক্ষীরায় অবস্থান করায় তার ছোট ভাই ফোনে বিষয়টি জানান। পরে বাড়িতে ফিরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং দোকানটি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা দেখে থানায় অভিযোগ করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ বিষয়ে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মারুফ বিল্লাহ। তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com