মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

কালিগঞ্জ টেকনিক্যালে তদন্ত আজ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৬০ Time View
Update : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করার অভিযোগ এবার প্রশাসনিক তদন্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর কলেজটির একাদশ শ্রেণির ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শিক্ষার্থী কাজী তানজীল এলাহি জীম, আইটি সাপোর্ট বিভাগের মোখলেছুর রহমান, শেখ ফয়সাল আহমেদ এবং জেনারেল ইলেকট্রনিক্স বিভাগের শেখ সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত স্মারক নং-০৫.৪৪.৮৭০০.০০০.০১৭.২১.০০০২.২৬.৫১৮ জারি করা হয়।

ওই স্মারকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অভিযোগপত্রে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার প্রস্তুত, জ্বালানি তেল ক্রয়ে অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করা, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এর আগে কলেজটিকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শোকজের ভয় দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতর্কিত আচরণ, কথিত ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লোপাট, সরকারি অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাসে পরিণত করা, কলেজের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, অস্বাভাবিক মূল্যে ক্রয় দেখানো, সরকারি জ্বালানি ব্যবহারে অনিয়ম, শিক্ষকদের বদলি নিয়ে বিতর্ক, শিক্ষার্থী আন্দোলন, মানববন্ধন, ভাইরাল অডিও এবং পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বদলিসহ একাধিক ঘটনা প্রকাশিত হয়।

এসব প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জেলা প্রশাসনের এই তদন্তের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা। এদিকে তদন্তকে ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্ত যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন হয় এবং সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র, বিল-ভাউচার, ইনডেন্ট রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার, সরকারি সম্পদের ব্যবহার, জ্বালানি ক্রয়, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হয়।

তবে উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com