কুয়েতের স্বপ্ন দেখিয়ে ১০ লাখ হাওয়া; ভিসা-বাবা বিপ্লব এখন হুমকির ফেরিওয়ালা!
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ২৮১
Time View
Update :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় কুয়েতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরতের জন্য চেষ্টা করেও প্রতারকের কাছ থেকে তারা পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার, বরং উল্টো হুমকি-ধমকির শিকার হচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার আনদুলপোতা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খলিলুর রহমান (৫৬) আশাশুনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মশিউর রহমান বিপ্লব (২৫), আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া গ্রামের মৃত মহির উদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে।
ভুক্তভোগীর ছেলে হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস (২৮) বর্তমানে কুয়েতে অবস্থান করছেন। সেখানে একই রুমে বসবাসের সুবাদে অভিযুক্ত বিপ্লবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিপ্লব কুয়েতে লোক পাঠানোর জন্য ভিসা থাকার কথা বলে দুইজন ব্যক্তিকে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়।
এ প্রলোভনে বিশ্বাস করে হাবিবুল্লাহ বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১০ লাখ টাকা বিপ্লবের কাছে প্রদান করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাউকে কুয়েতে পাঠানো তো দূরের কথা, টাকা ফেরত দিতেও গড়িমসি শুরু করে অভিযুক্ত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা ফেরত চাইলে বিপ্লব “আজ দেব, কাল দেব” বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে।
গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগীর পিতা খলিলুর রহমান ও তার আত্মীয় হারুনর রশিদ অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা হয়। এমনকি তাদের হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে অভিযুক্ত বিশ্বাসভঙ্গের গুরুতর অপরাধ করেছে। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুক্তভোগী পরিবার বলেছে, “আমরা আমাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত চাই এবং প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”