সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং গায়ে হাত তোলার উদ্দেশ্যে তেড়ে যাওয়ার মতো চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও ন্যক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে এক সহকারী রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান, তিনি হাসপাতালটির সার্জারি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীর জামাতা শেখ আব্দুর রহমান হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে চরম ক্ষোভ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা গ্রামের বাসিন্দা কাজী আবু বকর বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলায় সার্জারি বিভাগের ‘স্টার-ফোর’ বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান তার জামাতা শেখ আব্দুর রহমান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামানের সাথে কথাবলার একপর্যায়ে কোনোপ্রকার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই উক্ত চিকিৎসক মেজাজ হারিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
ভুক্তভোগী শেখ আব্দুর রহমান জানান, কোনো উসকানি ছাড়াই ডাঃ আসাদুজ্জামান আমার সাথে চরম অশালীন ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে একপর্যায়ে মারধরের উদ্দেশ্যে আমার দিকে তেড়ে আসেন। সরকারি হাসপাতালে একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন সন্ত্রাসী সুলভ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে উপস্থিত রোগী ও অন্য স্বজনেরা আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। সরকারি চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন অপেশাদার ও সন্ত্রাসী কায়দায় তেড়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, সাধারণ মানুষ যেখানে সেবার আশায় হাসপাতালে যায়, সেখানে যদি চিকিৎসকদের হাতেই লাঞ্ছিত ও আতঙ্কিত হতে হয়, তবে সেবার মান আর কোথায় গিয়ে ঠেকেছে? এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শেখ আব্দুর রহমান হাসপাতাল পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল।
হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা করলে এবং ওই সময় উপস্থিত রোগী, স্বজন ও অন্য কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই ঘটনার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তিনি অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে এসে এ ধরনের লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হতে না হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওয়ার্ডে ডিউটি চলাকালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি করা হচ্ছিল। চিকিৎসার পরিবেশ ও অন্যান্য রোগীদের সুরক্ষার স্বার্থেই তাঁদের স্বাভাবিকভাবে নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করেছিলাম। কারো সাথে কোনো গালিগালাজ বা মারধরের চেষ্টার ঘটনা ঘটেনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে আমি সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে সত্যতা প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছি।
ঘটনার সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ কুদরতি খোদা বলেন, লিখিত অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। রোগীদের সুষ্ঠু সেবাদান এবং তাঁদের স্বজনদের সাথে সম্মানজনক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা আমাদের হাসপাতালের মূল অগ্রাধিকার। যেকোনো প্রকার অপেশাদার আচরণ বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখে থাকি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় সাধারণ রোগীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।