আশাশুনিতে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে মাছ লুট!
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৪২৬
Time View
Update :
রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের একসরা খাল জলমহালকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ইজারাকৃত জলমহালে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে জাল কেটে নদীর সঙ্গে একাকার করে দেওয়া, প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ নদীতে ছেড়ে দেওয়া এবং আরও প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ লুট করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ইজারাদার মো. শাহিনুর রহমান। এ ঘটনায় তিনি আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, আশাশুনি উপজেলার একসরা খাল জলমহালটি বাংলা ১৪৩৩ সালের ১ বৈশাখ থেকে ১৪৩৫ সালের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন শাহিনুর রহমান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র ওই জলমহাল দখলের উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই ২০২৬ তারিখ সকাল প্রায় ১১টা ৪০ মিনিটে আশাশুনি উপজেলার ৯ নং আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা রুহুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে প্রায় ২৯ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র, দা, কুড়াল, শাবল, লোহার রড, জিআই পাইপ, কোদাল, টানা জাল ও খেপলা জাল নিয়ে জলমহালে প্রবেশ করে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা জলমহালের জাল কেটে নদীর সঙ্গে একাকার করে দেওয়ায় সেখানে থাকা বাগদা, গলদা, হরিণা ও বিভিন্ন প্রজাতির সাদা মাছ নদীতে চলে যায়। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা জলমহাল থেকে প্রায় ১ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তরা জলমহালের স্লুইস গেটে জাল পেতে মাছ ধরার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইজারাদারের দাবি, তারা বাধা দিতে গেলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈধ ইজারাদার চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই জলমহালে অবৈধ প্রবেশ বন্ধ, মাছ লুটপাট প্রতিরোধ এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ইজারাকৃত জলমহালে যদি প্রকাশ্যে হামলা, লুটপাট ও দখলচেষ্টার মতো অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত না হয়, তাহলে সরকারের রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা এবং জলমহাল ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জলমহালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য আশাশুনি ৯নং আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা রুহুল কুদ্দুস-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চরম রাগান্বিত হন। জলমহালে হামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তিনি এই প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হন এবং এই বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিসহ বিভিন্ন আইনি ও ফৌজদারি মামলা করার প্রকাশ্য হুমকি দেন।
এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সরকারি বিধি মোতাবেক ইজারাকৃত জলমহালে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ, হামলা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি রাজস্ব সুরক্ষায় এবং বৈধ ইজারাদারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে দেওয়া হবে না।