সামেকে প্যাথলজি বিভাগে কালো দাগ; সরকারি নমুনা-প্যাড কেলেঙ্কারি পাচার কাণ্ডে কাঠগড়ায় সুব্রত
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ২৭৮
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগের রক্ত পরীক্ষার নমুনা ও সরকারি প্যাড বহিরাগত ক্লিনিকের প্রতিনিধির কাছে পাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি হাসপাতালজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে এবং পৃথকভাবে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের রক্ত পরীক্ষার কিছু সংখ্যক নমুনা ও সরকারি প্যাডসহ এক বহিরাগত ক্লিনিক প্রতিনিধিকে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্লাটুন কমান্ডার ও আনসার সদস্যরা আটক করেন। বিষয়টি হাসপাতালের অভ্যন্তরে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়। সরকারি হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার নমুনা এবং সরকারি প্যাড কীভাবে বহিরাগত ব্যক্তির হাতে গেল তা নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য ও ক্ষোভ।
এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ শেখ কুদরত ই-খুদা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) সুব্রত কুমার-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে বলা হয়, প্যাথলজি বিভাগ থেকে কীভাবে রক্ত পরীক্ষার নমুনা ও সরকারি প্যাড বহিরাগত ক্লিনিক প্রতিনিধির কাছে পৌঁছালো, সে বিষয়ে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দাখিল করতে হবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সচেতন মহলের দাবি, এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলা নয়, বরং সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকে বেসরকারি ক্লিনিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুতর অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে। অনেকেই মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডাঃ মানস কুমার মন্ডল। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডাঃ আসিফ কাউসার এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডাঃ মোছাঃ হাফিজা খাতুন।
তদন্ত কমিটিকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষার নমুনা যদি বহিরাগত ক্লিনিকের হাতে চলে যায়, তবে রোগীদের গোপনীয়তা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যায়।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, তদন্তে কোনো ধরনের গোপন সমঝোতা নয়, বরং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামেক হসপিটালের প্যাথলজি ইনচার্জ সুব্রত কুমার দাসের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি রিসিভ না করাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা: শেখ কুদরত ই-খুদা বলেন, সরকারি হাসপাতালের পরীক্ষার নমুনা ও সরকারি প্যাড বহিরাগত ব্যক্তির কাছে পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। হাসপাতাল প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার স্বচ্ছতা, রোগীদের গোপনীয়তা এবং হাসপাতালের সেবার মান বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।