বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

জনশক্তি অফিসে দুর্নীতির দুর্গ: হুমকি, সিন্ডিকেট ও প্রশাসনিক নীরবতার ভয়ংকর চিত্র

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৭৮ Time View
Update : রবিবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২৬

সাতক্ষীরা জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস এখন আর শুধু দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত কোনো সরকারি দপ্তর নয়—এটি পরিণত হয়েছে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের নিরাপদ অভয়াশ্রম। যেখানে ঘুষ, নথি জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ গঠন এবং সাংবাদিক ভয়ভীতি প্রদর্শন একই সুতোয় গাঁথা।

পূর্ববর্তী পর্বে উঠে আসা অবৈধ সম্পদ ও নথি কারসাজির তথ্যের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে সামনে এসেছে হুমকি, প্রভাব খাটানো ও প্রশাসনিক প্রশ্রয়ের ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ ঠেকাতে কথিত যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী মঞ্জুরুল ইসলামের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, কাজে বাধা সৃষ্টি এবং “বেশি বাড়াবাড়ি না করার” বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে-একটি সরকারি অফিসের দুর্নীতি ঢাকতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার সাহস আসে কোথা থেকে? অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, বিদেশগমন সংক্রান্ত বহু ফাইল বছরের পর বছর আটকে রেখে পরে নির্দিষ্ট ‘লাইন’ ধরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসের ভেতর থেকেই ইঙ্গিত দেওয়া হতো-“ঠিক জায়গায় কথা বললে কাজ সহজ হবে।” অর্থাৎ সরকারি সেবাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল দালাল ও মধ্যস্থতাকারীদের স্বার্থে।

 

একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা আইন মেনে আবেদন করেছি। কিন্তু আইন নয়, এখানে টাকা আর তদবিরই শেষ কথা।” অবৈধ সম্পদের প্রশ্নে অস্বস্তিকর নীরবতা জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য এখন আর গোপন নয়। বাড়ি, জমি ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে ধারাবাহিক প্রশ্ন উঠলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরবতা প্রমাণ করে-এই নীরবতাই দুর্নীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। একইভাবে সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আব্দুস সালামের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নের পাহাড় জমেছে। কিন্তু এত অভিযোগ, এত নথি, এত ভুক্তভোগীর আর্তনাদ-সবকিছুর পরও কেন কোনো দৃশ্যমান তদন্ত নেই? প্রশাসন কি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ রেখেছে?

সবচেয়ে ভয়াবহ প্রশ্নটি এখানেই। তাহলে কি জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেনেও না দেখার ভান করছে? নাকি এই দুর্নীতির চক্র কোনো অদৃশ্য ছত্রছায়ায় এতটাই শক্তিশালী যে প্রশাসনও নির্বিকার? সুশীল সমাজের ভাষায়, “এই নীরবতা আর ব্যর্থতা নিজেই এক ধরনের অপরাধ।” ভুক্তভোগী, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের দাবি এখন আর অস্পষ্ট নয়—অবিলম্বে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান হুমকি ও বাধাদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং প্রমাণ মিললে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। অন্যথায়, জনশক্তি অফিস নামের এই দুর্নীতির দুর্গ আরও শক্ত হবে, আরও বেপরোয়া হবে।

আর প্রতিদিন ভাঙবে বিদেশে গিয়ে বাঁচার স্বপ্ন দেখা অসংখ্য অসহায় মানুষের আশা। এবিষয়ে সাংবাদিককে হুমকি প্রদানকারী কথিত মঞ্জুরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে সাংবাদিকের সংবাদ প্রকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের অফিস প্রধান মোস্তফা জামান আমার মামা হয়। আমি জানতে চেয়েছি সাংবাদিকের কাছে কোন তথ্য প্রমান আছে কিনা থাকলে আমাকে দিক, তা না হলে প্রশাসনিক ভাবে আইনিপদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছি। তবে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন। চলবে……

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com