সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

সাতক্ষীরায় তীব্র শীতের দাপট, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

জি এম আমিনুল হক  / ২৩৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

প্রকৃতিতে এখন পৌষের মাঝামাঝি। উত্তুরে হাওয়ার ঝাপটায় সাতক্ষীরা জুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের দেখা নেই প্রায় ১সপ্তাহ ধরে। তীব্র এই শীতের কামড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। সবচেয়ে বেশি নাজেহাল হয়ে পড়েছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষ। শনিবার ভোরে সাতক্ষীরা শহর ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ঢাকা রাজপথ। রিকশাচালক, ভ্যানচালক আর দিনমজুরেরা খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে শীতের প্রকোপে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। যাত্রী না থাকায় রিকশা ও ভ্যানচালকদের আয় কমে গেছে অর্ধেকেরও কম।

শহরের দিনমজুর আমিন ম-ল বলেন, ‘শীতের চোটে হাত-পা অবশ হয়ে আসছে। রাস্তায় মানুষ নেই, কাজও নেই। দিন এনে দিন খাই, এখন ঘরে চাল তুলব কীভাবে?’ একই আক্ষেপ শোনা গেল ধুলিহর গোবিন্দপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, শীতের এই কামড়ে বাইরে বের হওয়াই দায়, কিন্তু পেটের দায়ে বের হতে হয়।আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত ১ সপ্তাহে সাতক্ষীরার তাপমাত্রার হিসেব দেখলে বুঝা যাচ্ছে শীতের তীব্রতা কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলার গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্ব নিন্ম ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রার সেই পারদ আরও নামার শঙ্কা রয়েছে। এই নিন্ম তাপমাত্রার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ছিন্নমূল, শিশু ও বৃদ্ধ সাধারণ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের ওপর। শীতজনিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে ঘরে ঘরে। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখন অতিমাত্রায় শীতার্ত। সরকারিভাবে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শীতার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে কেবল সরকারি সহায়তা নয়, সমাজের বিত্তবানদেরও এই বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। পৌষের এই হিমেল রাত আর কুয়াশাচ্ছন্ন দিনগুলো বিত্তশালীদের কাছে আরামদায়ক মনে হলেও, সাতক্ষীরার প্রান্তিক মানুষের কাছে তা এখন এক কঠিন অস্তিত্বের লড়াই।

গত কয়েকদিন ধরেই সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। রাতভর ঘন কুয়াশা, কোথাও কোথাও কুয়াশা থাকছে দিন-রাত সব সময়ই। কোথাও হয়ত একটু সূর্যের দেখা মিলছে। তবে অনেক এলাকায়ই সারা দিনে সূর্যের দেখা মিলছে না। কমছে না শীতের তীব্রতা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ ছাড়া শীতজনিত রোগও বেড়েছে। আশংকা জনক অবস্থায় হাসপাতালে ভিড় হচ্ছে রোগীদের। অসহায় মানুষেরা কাজের জন্য ছুটতে পারছেন না। মানবিক সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন তারা জেলার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। ৩০ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরের দিকে কিছুটা কুয়াশা কাটলেও কমেনি শীত, মেলেনি সূর্যের দেখা। সন্ধ্যায় মৃদু শীতল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। আগামী দুই একদিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে বলে তাদের ধারণা। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে জেলার হাজার হাজার শ্রমিক। গ্রামের কনকনে ঠান্ডায় শীত নিবারণের জন্য তারা খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নিচ্ছেন। বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে ঠান্ডা উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করছেন অনেক কৃষক। কনকনে ঠান্ডায় সময়মতো কাজে বের হতেও পারছেন না তারা। চারিদিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোটার মতো পড়ছে ঘনকুয়াশা।

তীব্র হাড়কাঁপানো শীতে সারা জেলা জুড়ে শীতজনিত রোগ সর্দি-কাশি, ঠান্ডা,কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরায় তীব্র শীতের কারণে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা নেই, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে, বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিস সুত্রে আরও জানা গেছে, শীতের তীব্রতা আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তাই শীতার্ত মানুষের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com