★সহযোগীদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ আরও স্পষ্ট
সাতক্ষীরা জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসকে ঘিরে দুর্নীতি, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের ধারাবাহিক অভিযোগে বিষয়টি এখন আর গুঞ্জন নয়—রীতিমতো জনমনে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
গভীর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাবেক জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস প্রধান মোস্তফা জামান দায়িত্বকালীন সময়ে অফিসটিকে কার্যত ঘুষ নির্ভর একটি ব্যবস্থায় পরিণত করেছিলেন—এমন অভিযোগ এখন স্থানীয়ভাবে ‘ওপেন সিক্রেট’। বিদেশগমন প্রত্যাশীদের জিম্মি করে, সরকারি প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার বানিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পদের পাহাড়—যার উৎস আজও অজানা।
সহযোগীদের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে হয়রানির অভিযোগ
অভিযোগের তীর কেবল সাবেক অফিস প্রধানের দিকেই নয়। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ ও আব্দুস সালাম-এর বিরুদ্ধেও ভয়াবহ হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে ‘অঘোষিত’ টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা হতো ইচ্ছাকৃতভাবে জরিপ রিপোর্ট বিলম্বিত করা হতো কখনো কাগজে ত্রুটি, কখনো সিস্টেম ডাউন, আবার কখনো নতুন জরিপের অজুহাতে দিনের পর দিন ঘোরানো হতো প্রতিবাদ করলেই শুরু হতো চাপ, ভয়ভীতি ও মানসিক হয়রানি।
“ঘুষ দিলেই কাজ, না দিলে ভোগান্তি” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদেশগমন প্রত্যাশী জানান,
“আমরা গরিব মানুষ। বিদেশ গিয়ে পরিবার বাঁচাতে চাই। কিন্তু ঘুষ না দিলে এখানে এক পা এগোনো যায় না। টাকা দিলেই সব ঠিক—এটাই নিয়ম হয়ে গেছে।”
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামানের মৌখিক নির্দেশেই মাঠপর্যায়ে জরিপ কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মজিদ বিদেশগমন প্রত্যাশীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন। নেতিবাচক মন্তব্য জুড়ে দিয়ে রিপোর্ট আটকে রাখা কিংবা নতুন জটিলতা তৈরি ছিল একটি পরিকল্পিত কৌশল।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামানের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির নির্ধারিত আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাপন, সম্পদ ও প্রভাবের কোনো সামঞ্জস্য নেই। স্বল্প সময়ে কীভাবে একজন সরকারি কর্মকর্তা এত সম্পদের মালিক হন—এই প্রশ্নের জবাব আজও অধরা।
অভিযোগের বিষয়ে জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, “রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এসব দেখাশোনা করেন আমাদের অফিসের আব্দুস সালাম সাহেব। কিছু হলে উনিই করেছেন। আপনি অফিসে আসুন, চা খাই।” জনশক্তি জরিপ অফিসার আব্দুস সালাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি অফিসের সামান্য কর্মচারী যা করেছেন স্যার করেছেন। আমি এর বিন্দুমাত্র কিছু জানি না।
অন্যদিকে, সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামান-এর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নীরবতা দীর্ঘদিন ধরে এমন গুরুতর অভিযোগ চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— স্বাধীন তদন্তের জোর দাবি
সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামান জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আব্দুস সালাম এর বিরুদ্ধে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত, অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।