বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

সাতক্ষীরা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসার মোস্তফা জামানের বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন!!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ / ৪২৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

সহযোগী হিসেবে জনশক্তি জরিপ অফিসার আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ
★“মোস্তফা জামানের সম্পদ: প্রশ্নের ঘূর্ণিঝড়”
★“সহযোগীর হয়রানি, সম্পদের উৎস প্রশ্নবিদ্ধ”
★“সাতক্ষীরায় অফিসে বিতর্ক”
★“সম্পদ ও হয়রানি: তদন্তের চোখে”
★“জনশক্তি অফিসে জল্পনা ও প্রশ্ন”
ভোগান্তি, হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যের আরেক নাম হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস। দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না—এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামান তার দায়িত্বকালীন সময়ে এই অফিসকে পরিণত করেছিলেন একপ্রকার ঘুষের আখড়ায়। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশগমন প্রত্যাশীদের জিম্মি করে তিনি গড়ে তুলেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পদ।
অভিযোগের তীর শুধু সাবেক অফিস প্রধানের দিকেই নয়। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদকে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশগমন ইচ্ছুক সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলেও একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন। অভিযোগ আছে,
ঘুষ ছাড়া নড়েনি ফাইল। প্রতিদিন শত শত বিদেশগমন প্রত্যাশী আঙুলের ছাপ, নিবন্ধন, জরিপ ও কাগজপত্র সংক্রান্ত কাজে অফিসে আসলেও নির্ধারিত ফি’র বাইরে ‘অঘোষিত’ টাকা না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হতো। কেউ প্রতিবাদ করলে শুরু হতো নানাভাবে হয়রানি—কখনো কাগজে ভুল, কখনো সিস্টেম ডাউন, আবার কখনো নতুন করে জরিপের অজুহাত।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামানের নির্দেশেই জনশক্তি জরিপ অফিসার মোঃ আব্দুল মজিদ মাঠপর্যায়ে বিদেশগমন প্রত্যাশীদের চাপের মুখে ফেলতেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ইচ্ছাকৃতভাবে জরিপ রিপোর্ট আটকে রাখা, নেতিবাচক মন্তব্য জুড়ে দেওয়া কিংবা নতুন জটিলতা তৈরি করাই ছিল তাদের কৌশল। জনমনে প্রশ্ন! বিপুল সম্পদের মালিক কীভাবে? দায়িত্বকালীন সময়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে কীভাবে এত অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন সম্ভব—তা নিয়েই এখন জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামানের জীবনযাত্রা ও সম্পদের কোনো মিল নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিদেশগমন প্রত্যাশী জানান, “ঘুষ না দিলে কাজ হয় না। টাকা দিলেই সব সমস্যা মিটে যায়। আমরা গরিব মানুষ—বিদেশ গিয়ে পরিবার বাঁচাতে চাই। অথচ এখানেই আমাদের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেওয়া হয়।”
এতসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—এই দুর্নীতির পাহাড় প্রশাসনের অগোচরে কীভাবে বছরের পর বছর টিকে থাকল?
সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সাবেক অফিস প্রধান মোস্তফা জামান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে স্বাধীন তদন্ত, অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, তা না হলে সাধারণ মানুষের বিদেশগমনের স্বপ্ন এভাবেই দুর্নীতির বলি হতে থাকবে।
অভিযোগের বিষয়ে জনশক্তি জরিপ অফিসার আব্দুল মজিদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন রিক্রুটিং এজেন্সি আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার এর সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। আমার অফিসের আব্দুস সালাম সাহেব এই সবগুলো দেখাশোনা করেন। কোন কিছু করলে সালাম সাহেব-ই করেছেন। আপনি আসুন অফিসে চা খাই।
সাতক্ষীরার সাবেক জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিস প্রধান মোস্তফা জামানের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com