আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে ডিলার তরুনের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সে বড়দল গ্রামের পান্নালাল দাস এর ছেলে তরুন দাস (৪২)। বড়দল বাজারের ব্যবসায়ী নারান, মোটরসাইকেল চালক মিজান, ফকরাবাদের জালাল গাজী ও আব্দুল হামিদ (হামু) সহ অসংখ্য লোক সাংবাদিকদের জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন স্প্রিট ডিলার তরুণের কর্মকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়ে ইউনিয়নবাসী। সে দীর্ঘদিন যাবত বড়দল মাদুরের চাঁদনির পাশে মৃত সঞ্জয় এর স্ত্রীর সঙ্গে ধরম আত্মীয় সম্পর্কের পূর্বে পরকীয়া সম্পর্ক করে সেখানে বিয়ে করেছে এই তরুন। আমাদের মা, স্ত্রী, সন্তান কেউ এই তরুণের জন্য রাস্তাঘাটে বের হতে পারে না। তারা আরো জানান, গত সোমবার একই ইউনিয়নের ফকরাবাদ গ্রামের মৃত সন্ন্যাসী মন্ডল এর মেয়ে (৪০)কে ঘরের মধ্যে থাকায় স্থানীয়দের চোখে খারাপ লাগলে স্থানীয় প্রায় ৫শতাধিক লোকজন জড় হয়।
একের পর এক বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়া আশাশুনি থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে জনতার হাতে আটক ডিলার তরুণ ও সন্ন্যাসী মন্ডলের মেয়েকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাত পর্যন্ত তাদেরকে থানায় আটকে রেখে মোটা টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সন্ন্যাসী মন্ডলের মেয়ে মাসুদ নামের এক যুবককে ভালোবেসে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে বিবাহে আবদ্ধ হয়। কিন্তু মেয়েটি প্রায় সময় বাপের বাড়িতে অবস্থান করে ডিলার তরুণের সাথে প্রেম সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে।
প্রেমের টানে ডিলার তরুণ প্রায় সময় রাতের বেলায় সন্ন্যাসী মন্ডলের বাড়িতে আসে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে ডিলার তরুণ যখন ওই বাড়িতে আবার এসে পৌঁছায় এর কিছুক্ষণের মধ্যে আশপাশের শত শত লোকজন জড়ো হয়ে তাদেরকে আটক করে। তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলেও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ায় এলাকার মানুষ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের আটক এর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তরুণের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়নবাসী। এদিকে ডিলার তরুণের গাত্রদাহ শুরু হলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেওয়া ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিউজ করে সাধু হওয়ার চেষ্টা করছে।
টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নোমান হোসেনের নিকট জানতে চাইলে অস্বীকার করেন।