সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আপন ছেলে ও ছেলের স্ত্রীর দ্বারা শারীরিক নির্যাতন সইতে না পেরে রমেছা খাতুন (৫৫) নামে এক নারী গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের ১নং কিসমত ইলিশপুর গ্রামে।
নিহত রমেছে খাতুন (৫৫) কিসমত ইলিশপুর গ্রামের মৃত ওমর আলীর স্ত্রী। রমেছা খাতুনের তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে রমেছা খাতুন মেয়ে নিগারন সাথে আলাদা সংসারে খাওয়া দাওয়া করতো। ছেলে ও ছেলের স্ত্রীদের সাথে রমেছা খাতুনের ভালো সম্পর্ক ছিল না।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, ভিকটিম রমেছা খাতুনকে দীর্ঘদিন মেজো ছেলে রেজাউলের স্ত্রী মৌসুমী মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলো।
শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) সকালে ছেলে রেজাউল ও স্ত্রী মৌসুমী দুজনে মিলে ভিকটিম রমেছা খাতুনকে জুতা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে বৃদ্ধা রমেছা খাতুন কিছুটা অসুস্থ হড়ে পড়েন। মরধরের কষ্ট সইতে না পেরে দুপুরের দিকে ভিকটিম রমেছা খাতুন গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা পথ অবলম্বন করেন। কিছু সময় পর পরিবারের অন্য সদস্যরা রমেছা খাতুনের মরদেহ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। ভিকটিমের মৃত্যুর খবর আশেপাশে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা শেষ বারের মত এক নজর তাকে দেখতে ছুটে আসেন।
খবর পেয়ে সন্ধ্যার আগে কলারোয়া থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। অভিযোগ উঠেছে পুলিশ নিরপক্ষ তদন্ত ও কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে চলে আসেন।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান রিমু জানান- ভিকটিম রমেছা খাতুন চোখে কম দেখার কারণে ভুলে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় পোস্টমর্টেম না করে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।