প্রবাসীর টাকা নিয়ে গোপনে দেবরের নামে জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৩৭
Time View
Update :
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
Share
বায়না চুক্তির মাধ্যমে বাড়িসহ জমি বিক্রির কথা বলে প্রথমে ৫ লাখ এবং পরে আরও ১০ লাখ টাকা-মোট ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পরও জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে, ক্রেতাকে বাড়িসহ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পর গোপনে ওই জমি দেবরের নামে রেজিস্ট্রি দলিল করে দিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই আত্মগোপনে চলে গেছেন। এ ঘটনায় কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে জমি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী আলী আকবর ও তার পরিবার।
ক্ষতিগ্রস্ত আলী আকবরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি উপজেলার হাবাসপুর গ্রামের আছান উল্লাহর মেয়ে তছিরন খাতুন সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও জমির মালিক। তছিরন খাতুন এবং তার স্বামী উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাটরা গ্রামের আব্দুল মাজেদ এর ছেলে মোস্তাকিম বিল্লাহ মিলে ওই জমি বিক্রির জন্য আলী আকবরের সঙ্গে বায়না চুক্তি করেন।
আলী আকবর জানান, তছিরন খাতুনের নামীয় জে এল ১৪, হাল জে এল ১২১ নম্বর খতিয়ানের ৬০১ নম্বর দাগে ৬৪ শতক জমির উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে বিআরএস জরিপে চূড়ান্ত প্রকাশিত ২৬৭ নম্বর, খারিজ সূত্রে ৪৭৫ নম্বর এবং পুনঃখারিজ ৪৭৯ নম্বর খতিয়ানের রেকর্ডীয় ১১৬০ নম্বর দাগের ডাঙা ০.১৪ একর জমির মধ্যে ০.১২ একর জমি নিয়ে এ বায়না চুক্তি হয়। জমিটি ১৭ জুলাই ২০২৩ তারিখে ৭১১৪ নম্বর রেজিস্ট্রি করা হেবা ঘোষণাপত্রসহ অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে প্রাপ্ত বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িসহ ১২ শতক জমির মোট মূল্য ১৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে স্ট্যাম্পে বায়না পত্র সম্পাদন করা হয়। বায়না করার সময় প্রথমে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন তছিরন খাতুন ও তার স্বামী। পরে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর স্ট্যাম্পে লিখিতভাবে বাকি ১০ লাখ টাকা বুঝে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি বায়না পত্র অনুযায়ী জমিটি ক্রেতার নামে লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
আলী আকবরের দাবি, জমির পুরো ১৫ লাখ টাকা পরিশোধের পর তছিরন খাতুন ও তার স্বামী বাড়িসহ জমির দখল তাকে বুঝিয়ে দেন। এরপর থেকে আলী আকবরের পরিবার ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছে। এমনকি বাড়ির বাইরে বায়না পত্র অনুযায়ী আলী আকবরের নামে একটি সাইনবোর্ডও টাঙানো রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে সম্প্রতি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে আলী আকবর ও তার পরিবার জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট জমি তছিরন খাতুন গোপনে তার দেবরের নামে দলিল করে দিয়েছেন। এরপর তছিরন খাতুন ও তার স্বামী মোস্তাকিম বিল্লাহ গা-ঢাকা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
আলী আকবর জানান, বিষয়টি জানার পর তারা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ওই জমিকে কেন্দ্র করে আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা/কার্যক্রম করা হয়েছে। এতে পুরো টাকা পরিশোধ করেও জমির মালিকানা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। একদিকে জমির মূল্য বাবদ দেওয়া বিপুল অর্থ, অন্যদিকে বেশ কিছু দিন থেকে বসবাস করা বাড়ি-সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত আলী আকবরের অভিযোগ, প্রবাসে কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা দিয়ে বায়না করে পরবর্তীতে জমির সমুদয় মূল্য পরিশোধ করলেও তাকে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি। বরং তার অজান্তে জমিটি অন্যের নামে দলিল করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করছেন।
এ বিষয়ে আলী আকবর ও তার পরিবার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, বায়না পত্র, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ, দখল এবং সংশ্লিষ্ট জমির দলিলপত্র যাচাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক এবং তারা যেন ন্যায়বিচার পান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তছিরন খাতুন ও তার স্বামী মোস্তাকিম বিল্লাহর বক্তব্য নেয়ার জন্য মোস্তাকিম এর ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭১৩-৬৩৩৫০৯ এ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে একাধিকবার ফোন দিলে সেটা সুইচ অফ দেখানোর কারনে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা যায়নি।