শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় খুঁজে বের করার লক্ষ্যে সরকার গ্রহণ করেছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ কর্মসূচি। কর্মসূচির ব্যাপক প্রচারণা ও শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে নির্ধারিত ‘ড্রপ ডাউন ব্যানার’ প্রদর্শনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রকাশিত নোটিশেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা উল্লেখ রয়েছে। তবে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ব্যানার টাঙানো হয়েছে, আবার কোথাও এখনো ব্যানার প্রদর্শনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। গত ২৬ আগস্ট উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের ৬৮ নম্বর শ্রীউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কর্মসূচির ব্যানারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, ব্যানার তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছে।
সবাই একসঙ্গে এলে বিদ্যালয়ে তা টাঙানো হবে বলে জানান তিনি।একই দিনে থানাঘাটা বকচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নির্ধারিত ব্যানার দেখা যায়নি। বিদ্যালয়ে প্রথমে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক আশাশুনিতে কাজে গেছেন।পরে প্রধান শিক্ষক শ্যামাপদ সরকার বিদ্যালয়ে এসে জানান, মাসিক সভায় ব্যানারের বিষয়ে বলা হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়ে এখনো ব্যানার তৈরি করা হয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন, তবে এখনো তা করা হয়নি। পরদিন ২৭ আগস্ট উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের কাপসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার কর্মসূচির বিষয়ে অবগত। তবে বিদ্যালয়ে তখনো ব্যানার প্রদর্শনের কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জানান, ব্যানার করার বিষয়ে তিনি চিন্তা-ভাবনা করছেন।অন্যদিকে বড়দল ইউনিয়নের ৪৭ নং বামনডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তুলনামূলক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে।
সেখানে ব্যানার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিহির বরণ মুখার্জি জানান, ব্যানার তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছে। সভা ও হোয়াটসঅ্যাপেই কি সীমাবদ্ধ নির্দেশনা? সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশাশুনি উপজেলা পর্যায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সভা গত ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ কর্মসূচি সম্পর্কে প্রধান শিক্ষকদের অবহিত করা হয়। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কর্মসূচির বিষয়ে বিদ্যালয় প্রধানদের অবগত না থাকার সুযোগ খুবই সীমিত। এরপরও কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নির্ধারিত ব্যানার প্রদর্শন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় শিশু-কিশোরদের কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক প্রচারণার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের দর্শনীয় স্থানে নির্ধারিত ব্যানার প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।এদিকে কর্মসূচির প্রতিযোগিতায় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ফলে রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রাক্কালে অনেক বিদ্যালয়ে ব্যানার প্রদর্শন না হলে প্রচারণার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।শুধু নির্দেশনা নয়, বাস্তবায়নও জরুরিসচেতন মহলের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল বিদ্যালয়ে একটি ব্যানার টাঙানোর বিষয় নয়। এর মূল উদ্দেশ্য শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় খুঁজে বের করা। তাই কর্মসূচির প্রচারণা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের প্রশ্ন, আশাশুনি উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্দেশনা পৌঁছানোর পরও যদি কোনো বিদ্যালয়ে ব্যানার না থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মনিটরিং করছে কি না। বিদ্যালয়ভিত্তিক বাস্তবায়নের কোনো তালিকা বা তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে কি না, এবং নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাফিলতি পাওয়া গেলে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এসব বিষয়ও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সচেতন নাগরিকরা আশাশুনি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টি সরেজমিনে অথবা ছবি/প্রতিবেদনভিত্তিক যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২৭’ কর্মসূচির প্রচারণা যেন শুধু সভা, কাগজপত্র কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের বার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত ও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।