দেবহাটায় সাংবাদিকদের উপর হামলা ও ছিনতাই: দুই আসামি কারাগারে, এক জন জামিনে
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ৩৬৬
Time View
Update :
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া নতুন বাজারে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ গরু জবাই করে বিক্রির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত করা, নগদ টাকা ছিনতাই, ক্যামেরা ভাঙচুর এবং জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কসাই চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন এবং একজনকে জামিন দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, “জাতীয় দৈনিক নতুন দিন”-এর সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি মোঃ মোতালেব সরদার দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়া নতুন বাজারে একদল কসাইয়ের অবৈধ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিয়মিত অসুস্থ ও অযোগ্য গরু জবাই করে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল।
ঘটনার দিন, ১৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে মোতালেব সরদার ও “দৈনিক ভোরের কাগজ”-এর জেলা প্রতিনিধি মোঃ ফরহাদ হোসেন সবুজ তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে যান। তারা গরুর অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে অভিযুক্তরা প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয় এবং পরে উত্তেজিত হয়ে সংঘবদ্ধভাবে সাংবাদিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে কসাইয়ের দোকানের সামনে দুই সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি লাথি, কিল-ঘুষি ও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে প্রধান আসামি মোঃ সাত্তার আলী মোতালেব সরদারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়।
এসময় মোঃ আল আমিন ভুক্তভোগীর পকেট থেকে নগদ ১৬,৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং মোঃ আব্দুস সবুর সাংবাদিকের ব্যবহৃত SONY HDR AX 2000 মডেলের একটি দামী ক্যামেরা ভেঙে প্রায় ৯৫,০০০ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এতেই থেমে থাকেনি হামলাকারীরা। তারা জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের দিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য আদায় করে তা মোবাইলে ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের মানহানি করার অপচেষ্টা চালায়।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে মোঃ মঞ্জুরুল এলাহী (বাবু) ও মোঃ সাইফুল আজম খানসহ আরও অনেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হওয়ায় ভুক্তভোগী থানায় মামলা দায়ের করেন। দেবহাটা থানায় দায়েরকৃত মামলাটি (নং-১৭/৪৪) পরবর্তীতে আদালতে প্রেরণ হয়ে মামলা নং-২৬৪৪ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
গত রবিবার (২৯ মার্চ) চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামি আল আমিন, আব্দুস সবুর ও আব্দুল খালেক জামিন আবেদন করলে বিচারক নুসরাত জাহান শুনানি শেষে আল আমিন ও আব্দুস সবুরের জামিন নামঞ্জুর করে তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপরদিকে আব্দুল খালেককে জামিন প্রদান করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত অপরাধের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।