সরকার বিরোধী একাধিক নাশকতা মামলায় জেল হাজতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বহিষ্কার নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত থানা যুবদলের সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্য,লুকোচুরি ও আয়নাবাজির অভিযোগ উঠেছে। আলাউদ্দিন সোহেল বর্তমান সাতক্ষীরার ওরকালিগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত কালীগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জি,এম শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কারের কথা বললেও বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম ও উপজেলা প্রশাসনকে অবগত না করানো এবং তথ্য গোপনকে কেন্দ্র করে সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে এমন নানান গুঞ্জন তুলেছে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তবে এ বিষয়ে সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেলের নিকট একাধিকবার জানতে চাইলে তিনি সাময়িক বহিষ্কারের কথা জানালেও কোন কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার ও আমাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছেন শুনেছি তবে এখনো পর্যন্ত আমি কোন রেজুলেশন বা কাগজপত্র হাতে পায়নি।
এ বিষয়ে সবকিছু এডহক কমিটির সভাপতি বলতে পারবে আমি তার নির্দেশ ছাড়া কিছু করতে পারবো না। এ বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনের অফিসে যেয়ে তার নিকট জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান সাময়িক বহিষ্কার সাথে সাথে বিষয়টি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবগত করানোর কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত আমাকে কোন চিঠি দিয়ে জানানো হয়নি। ঐ সময় এ প্রতিনিধির সামনে ঐ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনের নিকট ফোনে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সভাপতির দোহাই দিয়ে এড়িয়ে যান বলে জানান। তারপরের দিন আমার অফিসে এসে দেবেন বললেও সভাপতি সভাপতি আলাউদ্দিন সোহেলকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে সভাপতি ঐ আওয়ামী লীগ নেতা প্রধান শিক্ষককে রক্ষা করার নানান পায়তারার মৌখিক অভিযোগ আমার কাছে করেছে অনেক অভিভাবক, সচেতন মহল যে বিষয়ে কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় আমি কোন সদুত্তর দিতে পারিনি।
কালিগঞ্জ আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্যক্রম নিষিদ্ধ সাবেক যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে ঘূষ, নিয়োগ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দখল বাণিজ্য সহ নানান অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে এলাকার সচেতন মহল ,অভিভাবক, ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষকরা একাধিকবার তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে মাঠে সনদ অবরোধ করে। বিষয়টি নিয়ে তৎসময়ে উপজেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনী সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে নাশকতা মামলায় তাকে ২০২৫ সালের ২১শে ডিসেম্বর প্রথম গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। পরবর্তীতে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন বিএনপি অফিসে বোমা বিস্ফোরণ ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় গত ১৫ ই আগস্ট আবারো সরকার বিরোধী নাশকতা মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেফতার করায় বর্তমান সেই মামলায় জেল হাজতে আছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী ফৌজদারি বা কোন নাশকতায মামলায় জেল হাজতে গেলে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করতে হবে। এবং ঐ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সাময়িক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা যাবেনা।
কিন্তু তথ্য গোপন করায় বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে এডহক কমিটির সভাপতি বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আলাউদ্দিন সোহেলের বিরুদ্ধে গোপন সমঝোতার অর্থ বাণিজ্যের বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহল, অভিভাবক ও উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে ধূরুমো জালের সৃষ্টি হয়েছে । তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এ সমস্ত বিষয়ের অভিযোগ সম্পর্কে আলাউদ্দিন সোহেল অস্বীকার করে এ প্রতিনিধিকে জানান আমি গত ১৬ আগস্ট মিটিং থেকে তাকে সাময়িক বহিষ্কার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান। তবে এর স্বপক্ষে কোন কাগজপত্র এখনো দেখাতে পারেনি।