রাখাল থেকে ‘রাজা’ আজিজুল: ক্ষমতার ছোঁয়ায় কলাগাছের মতো বেড়ে ওঠা এক গল্প
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ১৬৯
Time View
Update :
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
Share
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুল হক সরদারের জীবনের গল্প যেন এক নাটকীয় উত্থানের কাহিনি। ছোটবেলায় পিতা সোলেমান সরদারের মৃত্যুর পর চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা আজিজুল একসময় বাশার সরদারের বাড়িতে রাখাল হিসেবে কাজ করতেন। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকতে পরবর্তীতে শ্বশুর ইয়াসিন মোল্লার ইটভাটায় ‘বৈলক্ষণ্য’ বা পেটে-ভাতে কাজ করতেন তিনি।
সেই ইটভাটাতেও বনিবনা না হওয়ায় জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন স্থানে ইটভাটার সরদার হিসেবে কাজ শুরু করেন আজিজুল। তবে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। শ্যামনগর-৪ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী প্রিন্সিপাল আবদুল হকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করার মাধ্যমে রাজনৈতিক বলয়ে প্রবেশ করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ইটভাটা থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক বনে যান আজিজুল হক সরদার। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাখাল থেকে হঠাৎ আঙ্গুর ফুলে কলাগাছ এমনই এক বিস্ময়কর পরিবর্তনের সাক্ষী তারা।
অল্প সময়ের মধ্যেই রাতারাতি গড়ে তোলেন একাধিক মৎস্য প্রকল্প, জমি-জমা এবং বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে তিনি কোটিপতি হিসেবে এলাকায় পরিচিত।
এতেই শেষ নয় স্থানীয়দের অভিযোগ, কাশিমাড়ী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ মহিষের খাল দখল করে প্রভাবশালী বলয়ের ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন আজিজুল। এতে করে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন সাধারণ শ্রমিক থেকে হঠাৎ বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠার পেছনে রহস্য উদঘাটন জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত আজিজুল হক সরদারের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন! ক্ষমতার ছায়া কি তবে আইনের ঊর্ধ্বে?