সাতক্ষীরার ১৮৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অর্থ নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের দাবি
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
/ ২৯৫
Time View
Update :
শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
Share
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সংস্কার ও মেরামতের জন্য সরকার বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়গুলোকে ভোটগ্রহণের উপযোগী, নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট পরিচালনার লক্ষ্যে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ভোটকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ দরজা-জানালা মেরামত ও প্রতিস্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত মেঝে সংস্কার, চুনকাম ও রঙ করা, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ সংস্কার, পর্যাপ্ত লাইট ও ফ্যান স্থাপন, টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ভাঙা রাস্তা সংস্কার এবং কোথাও কোথাও নিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বা মেরামত। পাশাপাশি বেঞ্চ, টেবিল ও অন্যান্য আসবাবপত্র মেরামতের কথাও বরাদ্দের অন্তর্ভুক্ত।
এই লক্ষ্যে সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৬৩ লাখ ৯৯ হাজার ৯১১ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দের চিত্র অনুযায়ী, আশাশুনি উপজেলায় ১১টি বিদ্যালয়ের জন্য ২ লাখ ৬১ হাজার ৬৬৫ টাকা,
কলারোয়া উপজেলায় ১২টি বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৯৯৯ টাকা, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৪১টি বিদ্যালয়ের জন্য ১৬ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৬ টাকা, তালা উপজেলায় ১৪টি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৩ টাকা,
দেবহাটা উপজেলায় ১৪টি বিদ্যালয়ের জন্য ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ টাকা, শ্যামনগর উপজেলায় ৩৬টি বিদ্যালয়ের জন্য ১১ লাখ ৮ হাজার ৩৩৩ টাকা এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫৭টি বিদ্যালয়ের জন্য সর্বোচ্চ ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
কিন্তু এই বরাদ্দ ঘিরেই এখন জেলা জুড়ে তীব্র প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীনের নির্দেশনায় সাতটি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসাররা এই বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ আত্মসাৎ বা তছরুপ করছেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, অনেক বিদ্যালয়ে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান সংস্কার কাজ হয়নি বা নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও পুরোনো দরজা-জানালাই রয়ে গেছে, কোথাও টয়লেট এখনও অচল, আবার কোথাও বৈদ্যুতিক ঝুঁকি আগের মতোই বহাল রয়েছে। অথচ কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমীন বলেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বরাদ্দকৃত অর্থে যদি এমন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবহেলাই নয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তার প্রতিও হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত, বরাদ্দের হিসাব প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অন্যথায় ভোটকেন্দ্র সংস্কারের নামে এই অর্থ লুটপাটের ঘটনা জনমনে আরও বড় প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।