বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

ওয়ারিশ গোপন করে জমি বিক্রি: প্রতারনার অভিযোগ কালীগঞ্জের আকমল, সবুর গংয়ের বিরুদ্ধে

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জ / ৩৮২ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা সদরে অবস্থিত কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের ওয়ারিশ গোপন করে ৭০ শতক জমি ১০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে আত্মসাতের ৪ লক্ষ টাকা প্রতারক আকমল, সবুর গংয়ের পকেটে। জমি ক্রেতা আব্দুল জব্বার নিঃস্ব হয়ে বিচারের দাবিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ,মেম্বারদের দ্বারে, দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে জমি ক্রেতা আব্দুল জব্বার কে সুদখোর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারক আকমল গংয়ের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে স্থানীয় কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ,ইউপি সদস্য আবু মুসা ,খাইরুল ইসলাম, আকলিমা খাতুন এ প্রতিনিধিকে জানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোটিশে প্রতারক আকমল হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করে লাপাত্তা।

বাজার গ্রাম রহিমপুর গ্রামের মৃত মনুর আলী গাজির পুত্র ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বারের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলার বাজার গ্রামের মৃত আজগার আলীর পুত্র প্রতারক আকমল হোসেন এবং সবুর হালদার মিলে বাজার গ্রামের মৃত পঞ্চানন হালদারের ৫ পুত্র এবং ১ কন্যার ৭০ শতক জমি বিক্রির জন্য আব্দুল জব্বারকে জানায়। ওই সময় মৃত পঞ্চাননের পুত্র (ওয়ারিশ) নিমাই হালদার, সন্ন্যাসী হালদার, গোবিন্দ হালদার, অশোক হালদার ,দয়াল হালদার এবং একমাত্র কন্যা প্রতিমা বিশ্বাস। এর মধ্যে তথ্য গোপন করে কুশুলিয়া ইউনিয়নের গাজী দুর্গাপুর মৌজার এস,এ ৪৪,৬৬ নং খতিয়ানের ৮,৯, এবং ১০ নং দাগে ৭০ শতক জমি আজমল সাক্ষী (সনাক্তকারি) থেকে সন্ন্যাসী হালদার এবং মৃত নিমাই হালদারের পুত্র অনিপ হালদার কে দাতা সাজিয়ে বাকি ৪ জনকে ফাঁকি দিয়ে ৭০ শতক জমি গত ২৮/৭/২০২৫ ইং তারিখে ৩৬০২ নং কবলা দলিলে রেজিস্ট্রি করে দেয়।

এর মধ্যে প্রতারক আকমল জমিদাতা সন্ন্যাসী হালদার এবং অনিপ হালদার কে ৬ লক্ষ টাকা দিয়ে বাকি ৪ লক্ষ্য টাকা আত্মসাৎ করে। ক্রেতা আব্দুল জব্বার জমি মিউটিশন/নামজারি সম্পূর্ণ করে ভাটা মালিক রিয়াজুল ইসলামের মৎস্য ঘেরের দখলে থাকায় জমির হারির টাকা নিতে গেলে জমির মালিকানার বিষয়টি ফাঁস হইয়া যায়। ওই সময় প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে জমির রেজিস্ট্রি করে দেওয়া মালিক সন্ন্যাসী হালদার এবং অনিপ হালদার জানায় প্রতারক আকমলের নিকট থেকে নেওয়া ৬ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে রাজি হয়। ওই সময় বিষয়টি জানতে পেরে প্রতারক আকমল ৪ লক্ষ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জমি ক্রেতা আব্দুল জব্বারকে সুদখোর আখ্যা দিয়ে জামাল হোসেন নামে এক আইনজীবীর মাধ্যমে লিগাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ যেন চোরের মার বড় গলা। ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খায়নি, এমনই পরিস্থিতির মধ্যে এই প্রতারক চক্রটি বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ানো নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোটিশ করলে একদিন মাত্র হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করে আর হাজির হয়নি। জমি বিক্রির নামে প্রতারণার ঘটনা সত্য বলে স্বীকার করে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com