বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

নলতায় ভুয়া ডাক্তারকে ৬ মাসের কারাদণ্ড

ফজলুল হক,কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: / ১১৯ Time View
Update : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা এলাকায় এমবিবিএস ডিগ্রি ও বিএমডিসি নিবন্ধন ছাড়াই নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার, ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে মোড়লী ইয়াসিন আলী (পলাশ) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা বাজার সংলগ্ন হাটখোলা জামে মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মানবস্বপ্ন হেলথ কেয়ার সেন্টার-এ অভিযান পরিচালনা করে এ দণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কালিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খান। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ডালিয়া আক্তার সাথী উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, অভিযুক্ত ইয়াসিন আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছিলেন। অথচ তিনি বৈধ এমবিবিএস চিকিৎসক নন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে চিকিৎসা বাণিজ্য পরিচালনা করছিলেন।

থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাটকেখালি গ্রামের মতি সরদারের ছেলে তন্ময় সরদার (৩০) গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে অভিযুক্তের চেম্বারে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে ৩০০ টাকা ভিজিটের বিনিময়ে তাকে ‘ন্যাপ্রসিন প্লাস ৩৭৫ মি.গ্রা.’সহ কয়েকটি উচ্চমাত্রার ওষুধ প্রেসক্রাইব করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ওষুধ সেবনের মাত্র দুই দিনের মধ্যে তন্ময় সরদারের শরীর, মুখমণ্ডল ও হাত-পা মারাত্মকভাবে ফুলে যায় এবং পেটের ব্যথা আরও বেড়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা জানান, উচ্চমাত্রার ব্যথানাশক ওষুধ (NSAID) সেবনের কারণে তিনি তীব্র কিডনি জটিলতা এবং স্ক্রোটাল সোয়েলিং (Scrotal Swelling)-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণের পর কিছুটা সুস্থ হয়ে তন্ময় সরদার অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, ইয়াসিন আলী কোনো এমবিবিএস পাস করা চিকিৎসক নন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ডিপ্লোমা (DMF) ডিগ্রিধারী হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াসিন আলী যে বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর (ডি-১৩১৯৮) ব্যবহার করছিলেন, সেটি প্রকৃতপক্ষে ডাঃ এ. জেড. এম. ফখরুল ইসলাম নামে একজন নিবন্ধিত এমবিবিএস চিকিৎসকের নামে ইস্যুকৃত। বিষয়টি জানার পর গত মে মাসে তন্ময় সরদার অভিযুক্তের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ইয়াসিন আলী (পলাশ)-কে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০-এর ২৯(১) ধারা অনুযায়ী, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ও বৈধ নিবন্ধন ছাড়া নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীও অননুমোদিত ব্যক্তির ‘ডাক্তার’ পরিচয় ব্যবহার নিষিদ্ধ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাইনুল ইসলাম খান জানান, জনস্বার্থে ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ চিকিৎসাকেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com