সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক সাংবাদিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তনিমা মন্ডল তনির নির্দেশে দায়ের হওয়া এ মামলাটি খামখেয়ালিপূর্ণ এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ইতোমধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা’ বলে সাংবাদিকদের কাছে ভাষ্য দিয়েছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা রুহুল আমিন শেখ শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নে তার ১৬ বিঘা মৎস্য ঘেরে হামলা, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগ এনে সাংবাদিক মো. ইব্রাহিম খলিলসহ চারজনকে আসামি করেন। আদালত ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর’ এর ১৫৬(৩) ধারায় তা এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে শ্যামনগর থানায় মামলা রুজু হয়।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল দাবি করেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষরা তাদের হয়রানি করতে এ মামলা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য মতে, বাদীপক্ষ পূর্ব থেকেই তাদের মৎস্য ঘের দখলের চেষ্টা করে আসছিল এবং এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কথিত হামলা, চাঁদাবাজি বা ভেড়ি কেটে ক্ষতিসাধনের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি মামলার এক আসামি আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইজড অবস্থায় থাকায় তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান, “সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।” শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. খালেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এদিকে, তদন্ত ছাড়াই আদালতের এমন নির্দেশে মামলা রুজু হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় আইনজীবী ও সাংবাদিকদের একটি অংশ। তাদের মতে, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া মামলা গ্রহণ করলে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং এতে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা কমে যেতে পারে।
ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।