রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় জখম ও দোকান লুটের ঘটনায় মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ১৮২ Time View
Update : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬

মাদক ব্যবসায়ী উজ্জলের নেতৃত্বে বেনাপোলের নারায়নপুর গ্রামের জলিল মোল্লার ছেলে মোঃ সোহাগ হোসেনকে মারধর শেষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। গত ২৯ মার্চ ২০২৬ ইং তারিখে ভুক্তভোগী সোহাগ হোসেন ৮জনকে আসামী করে ঐ ঘটনায় যশোরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজেষ্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী আরিফুল ইসলাম শান্তি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,আদালতে বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক বিষয়টি আমলে নিয়ে যশোর,সি আই ডি পুলিশকে তদন্ত পূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামীরা হলো বেনাপোল পোর্টথানাধীন বোয়ালিয়া গ্রামের আসাদুলের ছেলে উজ্জল,মধুর ছেলে হাসান,গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শাহআলম,দাদন মিয়ার ছেলে মোঃ রাসেল,মোকলেসের ছেলে মনির,আব্দুল গফুরের ছেলে মনির ও মোহাম্মদ সরদারের ছেলে দাদন মিয়া।

এছাড়াও মামলায় আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। মামলার আর্জিতে বাদী উল্লেখ করেন,গত ২১ ফেব্রুয়ারী ২৬ ইং তারিখ রাত ৯ ঘটিকায় নারায়নপুর গ্রামে অবস্থিত বাদীর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান তামান্না ইলেকট্রিকে আসামীগন অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া অনধিকার প্রবেশ করেন। আসামী উজ্জল বাদীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করিয়া ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোটর সাইকেল ভাংচুর করে।বাদী চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করিলে অন্যান্য আসামীরা তাকে মাটিতে ফেলিয়া দিয়া মারপিট করে গুরুতর জখম করে। এসময় বাদীর দোকানে থাকা ইলেকট্রিক তার, সুইচ, রেগুলেটরসহ অন্যন্যা মালামাল এবং দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ৬৫হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটের ঘটনা লোপাট করতে বাদীর দোকানে থাকা ৬টি সিসি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়াসহ হার্ডডিক্স খুলে নিয়ে যায়। বাদীর ডাক চিৎকারে স্থানীয় গ্রামবাসী এগিয়ে আসলে সাক্ষীদের সন্মুখে আসামীরা পরবর্তী ৭ দিনের মধ্যে চাঁদার দাবীকৃত ৭ লাখ টাকা না দিলে বাদীকে খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া দিবে ও বোমা মারিয়া বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উড়াইয়া দিবে বলে হুমকী দিয়ে চলে যায়।

আসামীদের হালায় গুরতর আহত সোহাগকে উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করেন।সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মামলার বাদী সোহাগ বাড়িতে ফিরলে আসামীরা বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ঘটনার পর কোন প্রকার প্রশাসনিক সহায়তা না পেয়েই প্রানভয়ে মামলার বাদী দীর্ঘ সময় আত্নগোপনে থাকে। এর আগে অভিযুক্ত আসামীরা ১৯ ফেব্রুয়ারী ২৬ ইং তারিখে মামলার প্রধান সাক্ষী সজিবকে বাসা থেকে ডেকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে মারধর করে।একপর্যায়ে টাকা না পেয়ে সোহাগ ও তার ভাই পুলিশের সোর্স হিসাবে দোষারপ করিয়া সজিবের সীকারোক্তি নেই ও তা মোবাইল ফোনে ধারন করে বলে স্থানীয় গ্রামবাসী নিশ্চিত করেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী সোহাগ জানান,আসামীরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ। এলাকায় তাদের উৎশৃঙ্খল আচরন ও মাদক দ্রব্য বিক্রি করতে নিষেধ করায় তারা শত্রুতার জেরে আমাকে মারধরসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালায়। আসামীরা স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাদের ছত্র ছায়ায় এলাকায় অপরাধ মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করায় পুলিশ প্রশাসন মাদক ব্যবসা বন্ধে কোন পদক্ষেপ নেইনা। রাজনৈতিক নেতাদের কারনে স্থানীয় ভাবে এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছ হতে আমি বিচার পাইনী।

ওল্টো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ এলাকায় বসবাস করতে দিবেনা বলে অনবরত শাসাচ্ছে। ভুক্ত্ভোগী সোহাগ তার উপর হামলার ন্যায় বিচার পেতে পুলিশের উর্ধতণসহ সমাজের ক্ষমতাবান মানুষের সহায়তা চেয়েছেন।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com