সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মৌতলা ইউনিয়নের লক্ষীনাথপুর গ্রামের প্রয়াত সুন্নাত গাজীর ছেলে মশিউর রহমান মুর্শিদের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২২ সালের ১৮ এপ্রিল ৬০ হাজার টাকা দেনমোহরে কালিগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সাতবসু গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে সোনিয়া পারভীন তনুর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মশিউর রহমান মুর্শিদ। তবে বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি।
অভিযোগ রয়েছে, মশিউর রহমান মুর্শিদ পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, নিয়মিত মাদক সেবনে আসক্ত হন এবং স্ত্রী সোনিয়া পারভীন তনুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এসব নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সোনিয়া পারভীন তনু নিজ ইচ্ছায় ২৫ সালের ৬ নভেম্বর স্বামীকে তালাক দেন।
তালাকের পরও থেমে থাকেনি হয়রানি। অভিযোগ অনুযায়ী, মাদকাসক্ত মশিউর রহমান মুর্শিদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সাবেক স্ত্রী সোনিয়া পারভীন তনুকে উদ্দেশ্য করে একের পর এক মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর লেখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে চলেছেন। এতে করে সোনিয়া পারভীন তনু ও তার পরিবারের সামাজিক সম্মান মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, এটি শুধু একটি পরিবারের মানসম্মানের প্রশ্ন নয়—বরং একজন নারীর চরিত্রহননের ঘৃণ্য অপচেষ্টা। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অভিযুক্ত মশিউর রহমান মুর্শিদকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, মাদকাসক্ত হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে একজন নারীকে হেয় করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে একজন নির্যাতিত নারী ও তার পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।