রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

একক প্রার্থী নিয়ে শক্ত অবস্থানে জামায়াত, লীগ শূন্য মাঠে,বিএনপি’র ৩ নেতার দৌড়ঝাপ

হাফিজুর রহমান কালিগঞ্জঃ / ২৬৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫

অন্তবর্তী কালীন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে অন্তবর্তী কালীন সরকার সব রকমের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই রাজনৈতিক দলগুলো। জামায়াত অনেক আগে থেকেই একক প্রাপ্তি ঘোষনা দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে। আওয়ামীলীগ শূন্য মাঠে অন্যান্য দলের খোঁজ না মিললেও সাতক্ষীরা- ৩ কালিগঞ্জ- আশাশুনি নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির ৩ জন হেভিওয়েট সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও দলীয় কোন্দল চরমে। নির্বাচনী মাঠে ছাড়াও ফেসবুক সহ নানা মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশায় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক প্রার্থী আছেন বিগত ১৬ বছর মামলা, হামলা ,জেল ,জুলুম ঝামেলার ভয়ে মাঠের ছিলেন না এমন প্রার্থীরা এখন মাঠে সরব। এছাড়াও বিগত ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগের থানা কমিটির সভাপতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ বাগিয়ে নেওয়া নিয়ে রয়েছে নানান বিতর্ক। সংখ্যালঘু সনাতনী হিন্দুদের ভোট ব্যাংকে হানা দিতে এবার জামায়াত ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রত্যেক মন্ডপে গিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন।

অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিতে ও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন তারা। তবে একক প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে জামায়াত অনেক আগে থেকে সুবিধা জনক, শক্ত অবস্থানে আছে। বিএনপি’র কেউ হাই কমান্ডের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় যোগ্য, অযোগ্য সবাই নিজেদের প্রার্থী দাবি করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রতিটি সংসদীয় আসনে বিএনপি’র প্রার্থীদের সবুজ সংকেত আশা করছেন বলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিকট থেকে । তবে আগাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন ছাড়া আর কোন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে খোঁজ মেলেনি। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সূরা ও কর্ম পরিষদের সদস্য ও সাবেক সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে এ আসনে অনেকটি শক্ত অবস্থানে দলকে সুসংঘটিত করে নিয়েছে। তাছাড়াও সাতক্ষীরা- ৩ কালিগঞ্জ -আশাশুনি উপজেলার প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা রিয়াসাত আলীর বাড়ি আশাশুনিতে হওয়ায় এখানে জামায়াত ইসলামের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত।

সেক্ষেত্রে আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অনেকটাই দুর্বল বলে নেতাকর্মীরা জানায় যে। বিএনপি’র সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন তারা হলেন গরিবের ডাক্তার খ্যাত সর্বদলীয় মানুষের মনি কোঠায় স্থান পাওয়া ড্যাবের সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মোঃ শহিদুল আলম। তিনি ২০০৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনীত হন কিন্তু নির্বাচন না হওয়ায় ওই সময় নির্বাচন করতে পারেননি। এছাড়াও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন । তিনি বিগত ২০০১ সালে জাতীয় পার্টির ভাঙ্গনে নাজিউর রহমান মঞ্জু (নাফি) গ্রুপ থেকে ৪ দলীয় ঐক্য জোটে প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করে বর্তমানে বিএনপি’র একজন প্রার্থী হিসেবে আবারো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য পদটি ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ প্রচার-প্রচারণা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেব দলের সহ-সভাপতি বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুল তিনিও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট ভিক্ষা করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সাতক্ষীরা জেলার সহ-সভাপতি কাজী মোহাম্মদ অয়েস করুনিকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন নিশ্চিত করায় তিনিও নির্বাচনী মাঠ চোষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রমতে সাতক্ষীরা জেলায় ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৫ টি সংসদীয় আসন ছিল। সেখানে তালা- কলারোয়া-১ , সাতক্ষীরা সদর- ২, আসাশুনি উপজেলা- ৩ ,কালিগঞ্জ- দেবহাটা-৪, এবং শ্যামনগর- ৫ । ২০০৮ সালে নির্বাচন ৫ টি সংসদীয় আসন ভেঙে ৪ টিতে পূর্ণ বিন্যাস করে। সেখানে তালা – কলারোয়া মিলে সাতক্ষীরা-১, সাতক্ষীরা সদর মিলে সাতক্ষীরা-২ ,আশাশুনি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন, দেবহাটা উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা- ৩ , এবং শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ৮ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয় সাতক্ষীরা-৪ । এবার নির্বাচন কমিশন সংসদীয় আসন পূর্বের ন্যায় ৪ টি ঠিক রেখে পুনঃবিন্যাস করে শ্যামনগর উপজেলাকে-৪ সংসদীয় আসন এবং পূর্বের ন্যায় কালিগঞ্জ- আশাশুনি উপজেলা মিলে সাতক্ষীরা- ৩ আসনের প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি ছাড়া এই আসনে দুটি উপজেলার ৪,৮৭,০৪৮ ভোটার তাদের ন্যায্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একজন যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করে সংসদে অভিভাবক হিসেবে পাঠাবেন। তবে এখনো পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানান শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে । তবে ভোটাদদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় মূল প্রতিদ্বন্দিতা হবে বিএনপি ,জামাতের মধ্যে। ৫ আগস্ট পরবর্তী কতিপয় নেতাকর্মীর কর্মকান্ডে কালিগঞ্জ, আসাশুনি উপজেলা বিএনপিকে ঘিরে রয়েছে বিতর্কে। এছাড়া সময় মত কমিটি না করা অভ্যন্তরীণ কোন্দল সহ নানা কারণে বেগ পেতে হচ্ছে। উপজেলা বিএনপি’র ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কমিটি গঠন নিয়ে দলীয় কোন্দল আরো প্রকট হয়ে আছে। আগামীতে উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে সভাপতি, সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে প্রায় ২০/২৫ জন প্রার্থী প্রতিনিয়ত একে অপরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ট্যাগ, কুৎসা রটিয়ে মুখোশ নিয়ে টানাটানি করছে ।

বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিগত ১৬ বছরের বিএনপি নেতাকর্মীদের আওয়ামী প্রীতি সম্বলিত নানান ছবি দিয়ে একে অপরকে বেকায়দায় ফেলছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধ ভাবে রাতদিন ভোটের মাঠে নানান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছে । তবে এখনো পর্যন্ত মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গণধিকার পরিষদ, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সহ অন্যান্য দল কে দেখা মেলেনি। বিএনপি একক প্রার্থী ঘোষণা করলে তখন কোন্দল হলে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ নিয়ে ভোটের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে এমনটাই ধারণা দলীয় নেতা কর্মীদের।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com