শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

মীমাংসার আড়ালে দখল উৎসব! অভিযোগের তীরে রোকন-জাকির

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ / ৬৭৮ Time View
Update : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের পৈতৃক ও খরিদকৃত জমি জবরদখল, হামলা, লুটপাট এবং দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটিকে হয়রানি করে আসছে। একই সঙ্গে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে উল্টো ভুক্তভোগীদের ওপর ‘মীমাংসার’ চাপ সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী জগবন্ধু দাস জানান, ২০১৩ সালে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে ক্রয়কৃত চাঁচাই মৌজার ৫৩ শতক জমি তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত ১৬ জুন ভোরে রেজাউল করিম, রাজ্জাক ঢালীসহ একদল সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের জমিতে প্রবেশ করে ঘেরাবেড়া ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং জমি ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমিতে চাষাবাদ শুরু করলে প্রতিবেশী শাহানারা খাতুন (৬৫) ও কিশোরী সাদিকা (১২) বাধা দেন। এ সময় তাদের ওপর বেধড়ক হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলার সময় শাহানারা খাতুনের গলা থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জগবন্ধু দাসের অভিযোগ, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রোকনুজ্জামান রোকন এবং ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী জাকির হোসেনের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি পরিবারটিকে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার আগেই গত ২১ এপ্রিল কালিগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৮৮) করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সর্বশেষ ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও রহস্যজনক কারণে এখনো মামলা রেকর্ড হয়নি।

জগবন্ধু দাস অভিযোগ করে বলেন, “আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ পুলিশ বিচার না করে মীমাংসার নামে সময়ক্ষেপণ করছে।” এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাহ জামাল বলেন, “বিবাদমান পক্ষ সর্বোচ্চ দুই শতক জমি পাওয়ার দাবি করতে পারে, সেটিও রাস্তার ধারে নয়, বাগানের ভেতরে। কিন্তু তারা প্রায় ২৮ শতক জমি জবরদখল করে নিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিকার চাই।”

জানা গেছে, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের উদ্যোগে গত ১১ মে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উভয় পক্ষ সর্বসম্মতিক্রমে সালিশনামায় স্বাক্ষর করে বিরোধ নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে একটি প্রভাবশালী মহলের উস্কানিতে পুনরায় হামলা চালিয়ে জমি দখল করা হয়।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। ফলে তারা ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কিত।

তবে এ বিষয়ে কালিগঞ্জ থানার ওসি মো. জুয়েল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানান এবং অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল, হামলা এবং মামলা গ্রহণে পুলিশের অনীহা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অবিলম্বে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com