রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন
Notice :
দৈনিক সাতক্ষীরার তথ্য

কালীগঞ্জে প্রতিপক্ষকে মারপিটের ঘটনায় সেনা সদস্যের নামে মামলা

হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ: / ৯৭ Time View
Update : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাচাকে মারপিটের ঘটনায় তৌফিক হাসান লিমন নামে ১ সেনা সদস্যের নামে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী দিনমজুর আশারাফ উদ্দিন। শুধু মারপিট করে ক্ষ্যান্ত হয়নি প্রভাব খাটিয়ে ঐ সেনা সদস্য উল্টো পাওখালি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ দিয়ে সন্ধ্যায় ডেকে নিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে জোরপূর্বক মুচলেকা লিখে নিয়ে রাত ১০টায় ছেড়ে দেয় বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকার শত শত লোক সেনা ক্যাম্পে এসে প্রতিবাদ করে ঐ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দিলে তা না নেওয়ায় থানায় অভিযোগ দিলেও নেয়নি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত (২১ অক্টোবর) সকাল ৭ টার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে। থানায় অভিযোগ না নেওয়ায় উপায়ন্তর না পেয়ে ভুক্তভোগী হোগলা গ্রামের মৃত ইউসুফ মোড়লের পুত্র আশারাফ উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২৭ অক্টোবর সাতক্ষীরার বিজ্ঞ আদালতে একই গ্রামের সেনা সদস্য তৌফিক হাসান লিমন সহ তার পিতা জহুরালি ,মাতা সালমা পারভীন এবং বোন ইভা পারভিন কে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং সিআরপি ৬৯৭/ ২৫( কালি:)।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওসি কালিগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা সূত্রে এবং হোগলা গ্রামের মুজাহিদ, ইয়াসিন ,বাশার ,আলাউদ্দিন মোড়ল সহ একাধিক ব্যক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান বাদী আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী সাজিদা বেগম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে সেনা সদস্য তৌফিক হাসানের আপন মামা মালয়েশিয়া প্রবাসী হিসেবে কাজ করে। সেই সুবাদে সেনা সদস্য তৌফিক হাসানের মামা এবং আশরাফ উদ্দিনের স্ত্রী ২ সন্তানের জননী সাজিদার সঙ্গে মোবাইলে ,পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে দু,জনেই প্রবাস থেকে দেশে ফিরে গোপনে বিয়ে করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় আশারাফ আদালতে স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক সেনা সদস্যের মামার নামে ১টি মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরের পর তার স্ত্রী সাজিদা তাকে তালাকনামা পাঠালে মামলা পরিচালনা থেকে বিরত থাকে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে গত ৩০ অক্টোবর সেন সদস্য তৌফিক হাসান লিমন ছুটিতে বাড়িতে এসে বাবা ,মা ,বোনদের সাথে নিয়ে চাচা আশারাফকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করে থানায় যেয়ে উপ পরিদর্শক মাহবুবের মাধ্যমে জিডি করে। সেখান থেকে ফিরে সেনা ক্যাম্পে উল্টো চাচার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ডেকে এনে পিটিয়ে মুচলেকা নিয়ে রাতে ছেড়ে দেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে পরের দিন সকালে শত শত গ্রামবাসী সেনা ক্যাম্পে এসে উল্টো ঐ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে তা নিতে অস্বীকার করে। পরে উপায়ান্তর না পেয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছে। এ ব্যাপারে ঐ সেনা সদস্যের পিতা জহুর আলুর নিকট জানতে চাইলে তিনি পূর্ব শত্রুতার বিষয়টি স্বীকার করে মারামারির বিষয়ে এবং তার পুত্র সেনা সদস্য তৌফিক হাসান লিমন জড়িত নয় বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি তদন্তাধীন বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।

add-nolta

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
Theme Created By ThemesDealer.Com