সুন্দরবনে দস্যু দমনে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে কুখ্যাত করিম শরীফ বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পঞ্চম দফার অভিযানে করিম শরীফ বাহিনীর তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন সুন্দরবনের শ্যালা নদীর মরা চানমিয়া খাল সংলগ্ন এলাকায় ডাকাত দলের অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে বুধবার বিকেল ৫টা থেকে টানা দুই দিন কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা ও স্টেশন কোকিলমনি (কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন) যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলিবর্ষণ শুরু করলে আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ডও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে অভিযানকারী দল ধাওয়া করে তিনজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়।
এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে ৩টি একনলা বন্দুক, ১টি দেশীয় পিস্তল, ৪৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১৮৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ২টি ওয়াকিটকি এবং ৪টি ওয়াকিটকি চার্জার উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন— বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান (২৫) ও মো. রমজান শরীফ (১৯), এবং ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার বাসিন্দা মো. এনায়েত (২৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে বনবিভাগের সহযোগিতায় করিম শরীফ বাহিনীর কবল থেকে চারজন জেলেকে উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
ব্রিফিং প্রদান করেন লেফটেন্যান্ট ইকরা মোহাম্মদ নাসিফ (এক্স), বিএন, নির্বাহী কর্মকর্তা, বিসিজিএস তৌহিদ।
Leave a Reply