মতিয়ার বাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখল ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আটুলিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখলের অপচেষ্টা, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ঘরে আগুন দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মোঃ আলতাব হোসেন লাভলু, আশরাফুজ্জামান মন্টু, আঁটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে আলতাব হোসেন লাভলু ও আশরাফুজ্জামান মন্টু ৭০-৮০ জন সশস্ত্র লোকজন নিয়ে তাদের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমিতে অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা অবৈধভাবে জমির মালিকানা ও দখল স্বত্ব তছরুপের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় এবং জমির প্রকৃত মালিকদের উপর চরম ভয়ভীতি সৃষ্টি করে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার শ্যামনগর থানাকে অবহিত করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং আলতাব হোসেন লাভলু রাজনৈতিক ট্যাগ ব্যবহার করে প্রকৃত জমির মালিকদের হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, আলতাব হোসেন লাভলু অতীতে তার চাচা সাবেক আওয়ামী লীগ উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের নাম ব্যবহার করে মরহুম আব্দুল কাদের চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে বহুবার জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এতে করে প্রকৃত মালিকরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জমির মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যমতে, বিরোধপূর্ণ জমির পরিমাণ প্রায় ২৪ একর ৬৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট খতিয়ান নম্বরগুলো হলো সি.এস ২৪১, এস.এ ৫৪১, আর.এস ৬৬৮ এবং বি.আর.এস ৬২৩। জমির একাংশে স্থানীয় জামে মসজিদ ও কবরস্থান রয়েছে এবং অন্য অংশে দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চলমান জমি বিরোধে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গত ১ মে ২০২৬ তারিখে মোঃ মতিয়ার রহমান গাজী নিজ বসতঘরে নিজেই আগুন লাগিয়ে শ্যামনগর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন তার ঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং তাকে পরিবারের সদস্যদেরসহ পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে।

তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ঘটনাটি রহস্যজনক এবং মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃত জমির মালিকদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই মামলা সাজানো হয়েছে বলে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।